বিশ্বকাপে একটি মুহূর্তই বদলে দিতে পারে পুরো ইতিহাস। ২০২৬ আসরের শেষ বত্রিশে আফ্রিকার তিন দলের গল্প যেন তারই এক নির্মম পুনরাবৃত্তি ঘটাল। তাদের জন্য ম্যাচের ‘৮৬তম মিনিট’-এর মুহূর্ত হয়ে উঠেছে, যা আশা আর স্বপ্ন ভঙ্গের নামান্তর।
গ্রুপ পর্বের উত্তেজনা পেরিয়ে বিশ্বকাপের নকআউট লড়াইয়ে এসে বিদায় নিয়েছে আফ্রিকার তিন প্রতিনিধি আইভরি কোস্ট, ডিআর কঙ্গো এবং সেনেগাল। তিনটি ম্যাচেই নাটকীয় মোড় এসেছে সেই ‘অভিশপ্ত ৮৬’ মিনিটে।
নরওয়ের বিপক্ষে ১-১ সমতায় লড়ছিল আইভরি কোস্ট। ম্যাচ যখন অতিরিক্ত সময়ের দিকে এগোচ্ছিল, তখনই ৮৬তম মিনিটে আঘাত হানেন আর্লিং হাল্যান্ড। তাঁর গোলেই ২-১ ব্যবধানে হেরে বিশ্বকাপ স্বপ্ন শেষ হয় আইভরিয়ানদের।

একই দৃশ্য চোখে পড়ে ইংল্যান্ড-ডিআর কঙ্গো ম্যাচেও। ৭৫ মিনিট পর্যন্ত পিছিয়ে ছিল ইংল্যান্ড। এরপর সমতা ফেরান হ্যারি কেন। আর ৮৬তম মিনিটে নিজের জোড়া পূর্ণ করে ২-১ ব্যবধানে থ্রি লায়ন্সকে নিয়ে যান পরের রাউন্ডে।
তবে সবচেয়ে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের আখ্যান বেলজিয়ামের। ৮৫ মিনিট পর্যন্ত ২-০ ব্যবধানে সেনেগাল এগিয়ে থাকলেও ৮৬ মিনিটে রোমেলু লুকাকুর গোল বদলে দেয় ম্যাচের গতি। তিন মিনিট পর সমতা ফেরান ইউরি টিলেমান্স। স্টপেজ টাইমে পেনাল্টি থেকে আবারও জালের দেখা পেয়ে বেলজিয়ামকে ৩-২ ব্যবধানের অবিশ্বাস্য জয় এনে দেন তিনিই।
এটি নিছকই কাকতালীয় ব্যাপার হলেও একই মিনিটে তিনটি আফ্রিকান দলের স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার এই গল্প আবারও মনে করিয়ে দিল বিশ্বকাপের মঞ্চে শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত কোনো ম্যাচই সত্যিকার অর্থে শেষ হয় না। শেষ হয় না সংগ্রাম, উত্তেজনা আর জাগরণের পারদের ব্যাপনও।










