রাচিন রবীন্দ্র, দ্য লোকাল বয় ফ্রম ব্যাঙ্গালুরু

এর মধ্য দিয়ে নিউজিল্যান্ডের ইতিহাসে নাম লেখালেন এই বাঁ-হাতি। ২০১২ সালে রস টেইলর ভারতের মাটিতে সেঞ্চুরি করার এক যুগ পর কোন কিউই ব্যাটার এখানে হেলমেট উঁচিয়ে ধরতে পারলেন। ‘বিশেষ’ রেকর্ডটা অবশ্য বেঙ্গালুরুর লোকাল বয়ের ঝুলিতে নিজেই রেখেছেন ক্রিকেট বিধাতা, তা নাহলে ডেভন কনওয়ে হয়তো নব্বইয়ের ঘরে আউট হতেন না।

বাবা-মায়ের জন্ম ব্যাঙ্গালুরুতে, শহরটার সাথে রাচিন রবীন্দ্রের নাড়ির টান তাই আগ থেকেই আছে। নিজের শেকড়ের কাছে প্রত্যাবর্তন তাই স্মরণীয় করে রাখতেই হতো তাঁকে, তিনি সেটাই করেছেন। যে পিচে ভারত গুটিয়ে গিয়েছে স্রেফ ৪৬ রানে, সেখানে দাঁড়িয়ে তিনি খেলেছেন ১৩৪ রানের মহাকাব্যিক ইনিংস।

এর মধ্য দিয়ে নিউজিল্যান্ডের ইতিহাসে নাম লেখালেন এই বাঁ-হাতি। ২০১২ সালে রস টেইলর ভারতের মাটিতে সেঞ্চুরি করার এক যুগ পর কোন কিউই ব্যাটার এখানে হেলমেট উঁচিয়ে ধরতে পারলেন। ‘বিশেষ’ রেকর্ডটা অবশ্য বেঙ্গালুরুর লোকাল বয়ের ঝুলিতে নিজেই রেখেছেন ক্রিকেট বিধাতা, তা নাহলে ডেভন কনওয়ে হয়তো নব্বইয়ের ঘরে আউট হতেন না।

যদিও এই ব্যাটারের পারফরম্যান্স এতটুকুতে সীমাবদ্ধ ছিল না, দ্বিতীয় ইনিংসেও নিজের দৃঢ়তার প্রমাণ দিয়েছেন তিনি। ১০৮ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ব্ল্যাকক্যাপসরা ৩৫ রানে দুই উইকেট হারালেও আর কোন বিপদ হতে দেননি তিনি। ওয়ানডে স্টাইলে খেলেছেন, ৪৬ বলে করেছেন ৩৯ রান। তাতেই আট উইকেট হাতে রেখে নির্ধারিত লক্ষ্য টপকে যায় সফরকারীরা।

সর্বশেষ নিউজিল্যান্ড ভারতের মাটিতে টেস্ট জিতেছিল ১৯৮৮ সালে, বর্তমান প্রজন্মের অধিকাংশ দর্শকের তখন জন্মই হয়নি। ব্যাঙ্গালুরুর টেস্টে যে ঐতিহাসিক জয় এলো এবার, সেই জয়ের নায়ক রাচিনই জন্মেছেন এগারো বছর পর!

এর আগে ভারতের মাটিতে ওয়ানডে বিশ্বকাপেও রঙিন সব গল্প লিখেছিলেন তিনি। তাঁর বিশ্বকাপ অভিষেক হয়েছিল আহমেদাবাদে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। সেদিন স্রেফ ৯৬ বলে ১২৩ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে নিজের আগমনী বার্তা দিয়েছিলেন; টুর্নামেন্টের বাকি অংশে সেই বার্তা আরো শক্তশালী হয়ে উঠেছিল। সবমিলিয়ে ১০ ম্যাচে তিনি করেছিলেন ৫৭৮ রান, ভেঙ্গেছিলেন অজস্র রেকর্ড।

ভারতের মাটি যে এই তরুণের জন্য পয়মন্ত সেটা এখন অন্তত নতুন করে বলতে হবে না। চলতি টেস্ট সিরিজের বাকি দুই ম্যাচেও তাই তাঁর উপর থাকবে পারফরম্যান্সের বাড়তি চাপ। সেটা অবশ্য নিউজিল্যান্ডের জন্য ভালোই, চাপের মুখেই তো তিনি নিজের সেরাটা দিতে জানেন।

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

Share via
Copy link