জোড়া গোলে স্পেনের জয়ের নায়ক ইয়ামাল

সেভিয়ার রাতে ইয়ামাল আবারও প্রমাণ করলেন, তিনি কেবল ভবিষ্যতের কোনো সম্ভাবনা নন, বরং বর্তমান বিশ্ব ফুটবলেরই অন্যতম বড় বাস্তবতার নাম।

সেভিয়ার র‍্যামন সানচেজ স্টেডিয়াম তখন উয়েফা নেশনস লিগের উত্তেজনা ছড়াচ্ছে। কিন্তু ম্যাচের প্রথম বাঁশি বাজার পর থেকেই পুরো স্টেডিয়ামের নজর আটকে রইল একজন ১৭ বছর বয়সী তরুণের পায়ে। লামিনে ইয়ামাল। জোড়া গোল আর প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে একাই তছনছ করার পারফরম্যান্সে ম্যাচটিকে তিনি রূপ দিয়েছিলেন নিজের একক প্রদর্শনীতে।

খেলার বয়স তখন সবে দুই মিনিট। ক্রোয়েশিয়ার ডিফেন্ডাররা নিজেদের শক্তভাবে গুছিয়ে নেওয়ার আগেই বল পান ইয়ামাল। ডান উইং থেকে গতির তারতম্যে প্রতিপক্ষ ফুলব্যাককে সম্পূর্ণ পরাস্ত করে বক্সে ঢুকে পড়েন তিনি। এরপর বাঁ পায়ের এক নিপুণ ও বাঁকানো শটে বল জড়িয়ে দেন পোস্টে।

প্রতিপক্ষের পরিকল্পনা ভেস্তে দেওয়ার জন্য মাত্র একটি মুহূর্তই যথেষ্ট ছিল ইয়ামালের জন্য। প্রথমার্ধজুড়েই ক্রোয়েশিয়ান ব্যাকলাইনের মূল আতঙ্কের নাম ছিলেন এই তরুণ। একের পর এক ড্রিবলিং আর কাট ব্যাকে তিনি যেন প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে অনবরত গোলকধাঁধায় ফেলে রেখেছিলেন।

দ্বিতীয় অর্ধে স্পেনের আধিপত্য যখন আরও সুসংগঠিত হয়, তখন আবার দৃশ্যপটে হাজির ইয়ামাল। ৬৩ মিনিটে পেদ্রির তৈরি করে দেওয়া হাফ স্পেসের সুবর্ণ সুযোগটি কাজে লাগাতে বিন্দুমাত্র ভুল করেননি তিনি।

ঠাণ্ডা মাথায় ক্রোয়েশিয়ান গোলরক্ষককে পরাস্ত করে ম্যাচে নিজের দ্বিতীয় এবং দলের তৃতীয় গোলটি নিশ্চিত করেন। তবে কেবল গোল করাই নয়, ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে নিকো উইলিয়ামসের চতুর্থ গোলটির বিল্ড আপেও প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল এই বার্সেলোনা তরুণের।

স্প্যানিশ কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে কিংবা ফুটবল বিশেষজ্ঞরা ইদানীং তাঁর প্রশংসা করতে গিয়ে নতুন শব্দ খুঁজে পান না। কিন্তু সেভিয়ার রাতে ইয়ামাল আবারও প্রমাণ করলেন, তিনি কেবল ভবিষ্যতের কোনো সম্ভাবনা নন, বরং বর্তমান বিশ্ব ফুটবলেরই অন্যতম বড় বাস্তবতার নাম।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

সাব এডিটর

Share via
Copy link