২০২৬ বিশ্বকাপের মেগা ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। কিন্তু ভাবুন তো, আর্জেন্টাইন সুপারস্টার লিওনেল মেসি যদি স্পেনের জার্সি গায়ে মাঠে নামতেন? অবিশ্বাস্য মনে হলেও, ইতিহাসের পাতা বলছে গল্পটা প্রায় তেমনটাই হতে পারতো।
মাত্র ১৩ বছর বয়সে বার্সেলোনার লা মাসিয়ায় পা রাখেন মেসি। সেসময়েই মেসির বাঁ পায়ের জাদু, দুর্দান্ত গতি আর নজরকাড়া ড্রিবলিং দেখে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন মরিয়া হয়ে ওঠে এই বিস্ময় বালককে জাতীয় দলে ভেড়াতে। কিন্তু নিজের জন্মভূমি আর্জেন্টিনার টানে স্পেন জাতীয় দলের হয়ে খেলতে অস্বীকৃতি জানান মেসি।
মেসির সেই স্বপ্ন সত্যি হয় সাধারণ একটি ভিএইচএস টেপের হাত ধরে। ঘটনাটি ২০০২ সালের। বার্সেলোনার এক হোটেলে অবস্থানরত আর্জেন্টাইন কোচ মার্সেলো বিয়েলসা ও তার সহকারী ক্লডিও বিভাসের হাতে সেই ভিডিও টেপটি তুলে দেন মেসির তখনকার এজেন্ট হরাসিও গ্যাগিওলো।

ভিডিওতে কিশোর মেসির জাদুকরী ড্রিবলিং দেখে খোদ বিয়েলসা চমকে ওঠেন। প্রথম দেখায় বিয়েলসা ভিডিওটিকে ‘ফাস্ট-ফরওয়ার্ড’ করা ভাবলেও, বিভাস তার ভ্রান্তি কাটিয়ে দেন!
তবে ততদিনে ২০০৩ সালের অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপ স্কোয়াড চূড়ান্ত আর্জেন্টিনার। তাকে বাদ রেখে টুর্নামেন্টে গিয়ে মেসির অভাব হাড়ে হাড়ে টের পায় আলবিসেলেস্তরা। এরপর মেসিকে বাজিয়ে দেখতে তড়িঘড়ি করে ব্যবস্থা করা হয় এক প্রীতি ম্যাচের। ব্যস! আর পেছনে তাকাতে হয়নি মেসিকে। এরপর থেকে মেসি আর্জেন্টিনার হয়ে খেলছেন, গোল করছেন এবং করাচ্ছেন। দলীয় আর ব্যক্তিগত সব বড় অর্জনও তার পায়ে এসে লুটিয়েছে।
একটা ভিডিও টেপ আর নীল-সাদা জার্সির প্রতি মেসির অদম্য টানই ইতিহাসের সূচনা করেছে। আর তাতেই মেসি স্পেনের আবেদনকে ছাপিয়ে হয়ে উঠেছেন আর্জেন্টিনার ধ্রুবতারা। ২০২২-এর বিশ্বজয়ী মহাতারকা এবার ফের বিশ্বকাপের ফাইনালে নামছেন সেই স্পেনের বিপক্ষে। ফুটবল ভাগ্য কি তার সহায় হবেন আবার নাকি স্পেন জিতে নেবে দ্বিতীয় শিরোপা—জানা যাবে শিগগিরই।











