মেহেদী হাসান মিরাজের জন্য সময়টা আরও কঠিন হয়ে উঠছে। ওয়ানডে দলের অধিনায়কত্ব হারাবেন, এটা এখন ওপেন সিক্রেট। তবে, শুধু অধিনায়কত্বই নয়, ওয়ানডে দল থেকেও বাদ পড়তে যাচ্ছেন তিনি।
বিসিবি সূত্রে জানা গেছে, আগামী ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যেই ওয়ানডে নেতৃত্ব নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে। এরই মধ্যে বোর্ডের নীতি-নির্ধারকরা মিরাজকে নিজেদের অবস্থান জানিয়ে দিয়েছেন বলেও জানা গেছে। কেন এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, সেটাও নাকি তাকে স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
মিরাজকে সরানোর পেছনে কয়েকটি বড় কারণ কাজ করেছে। সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগ, তিনি অনেক ক্ষেত্রেই ব্যক্তি-কেন্দ্রিক চিন্তা করেন। সংশ্লিষ্টদের পর্যবেক্ষণে, দলের চেয়ে নিজের ভূমিকা ও অবস্থান নিয়েই বেশি মনোযোগী ছিলেন তিনি।
তাঁর ব্যাটিং পজিশন প্রশ্নবিদ্ধ। কখনো ৪ নম্বরে, কখনো ৫, কখনো ৬-শেষ পর্যন্ত নিজেকে ৭ নম্বরে স্থায়ী করার চেষ্টা করেছেন মিরাজ। কিন্তু আন্তর্জাতিক ওয়ানডেতে ৭ নম্বরে যে ধরনের ম্যাচ ফিনিশিং বা কার্যকর অলরাউন্ড পারফরম্যান্স প্রয়োজন, সেই প্রত্যাশার কাছাকাছিও যেতে পারেননি।

নেতা হলেও ড্রেসিংরুমে নেতৃত্বের দক্ষতা নেই মিরাজের, কেউ তাঁর কথা শোনে না। সতীর্থদের ওপর ব্যক্তিত্বের প্রভাব, কঠিন সময়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দৃঢ়তার অভাবও খুব স্পষ্ট।
মাঠের ভেতরের কিছু আচরণও নজরে এসেছে। অভিযোগ আছে, যখন অন্য কোনো বোলার ধারাবাহিকভাবে উইকেট পাচ্ছেন, ঠিক সেই সময় নিজে বোলিংয়ে এসে উইকেট নেওয়ার প্রবণতা দেখা গেছে তার মধ্যে।
শুধু অধিনায়কত্ব হারানোতেই বিষয়টি থামবে না। ওয়ানডে দল থেকেও মিরাজের জায়গা অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে। কারণ, বর্তমানে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ও মিরাজকে প্রায় একই ভূমিকার ক্রিকেটার হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মিরাজের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সও তার পক্ষে কথা বলছে না। লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগে (এলপিএল) সুযোগ পেয়েও ধারাবাহিকভাবে ভালো করতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত একাদশ থেকেও জায়গা হারাতে হয়েছে তাকে। এমন সময়েই জাতীয় দলে তার ভবিষ্যৎ নিয়েও বড় প্রশ্ন উঠেছে।
এখন প্রশ্ন হল, মিরাজের জায়গায় নেতৃত্ব কে পাবেন? বোর্ডের টেবিলে আপাতত দুটি পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রথম পরিকল্পনা অনুযায়ী, নাজমুল হোসেন শান্ত আবারও ওয়ানডে ও টেস্ট—দুই সংস্করণের অধিনায়ক হবেন। আর টি-টোয়েন্টির দায়িত্বে থাকবেন লিটন দাস, অর্থাৎ বর্তমান কাঠামোই বহাল থাকবে।
দ্বিতীয় পরিকল্পনায় রয়েছে ভিন্ন চিত্র। সেখানে লিটন দাসকে দুই সাদা বলের সংস্করণ—ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টির অধিনায়ক করা হতে পারে। অন্যদিকে শান্ত শুধুমাত্র টেস্ট দলের নেতৃত্বে থাকবেন। তবে এই দৌড়ে আপাতত শান্তই এগিয়ে আছেন বলে জানা গেছে।
এর পেছনেও রয়েছে কয়েকটি কারণ। ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, আগের বোর্ডের সময় আমিনুল ইসলাম বুলবুল শান্তকে আগে থেকে না জানিয়েই হঠাৎ নেতৃত্ব পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, যা দলের ভেতরে অস্থিরতারও জন্ম দেয়। বর্তমান বোর্ড সেই ধরনের পরিস্থিতি আর তৈরি করতে চায় না। তাই নেতৃত্ব পরিবর্তরের বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যেই মিরাজের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে শান্তকে আবার দায়িত্ব দিয়ে আগের সিদ্ধান্তের কিছুটা সংশোধনও করতে পারে বোর্ড।
অন্যদিকে লিটন দাসের ক্ষেত্রে কিছু বিষয় ভাবাচ্ছে। সম্প্রতি বোর্ডের অনুমতি ছাড়াই চীন সফরে যাওয়ার ঘটনাকে অপেশাদার আচরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফলে নেতৃত্বের দৌড়ে থাকলেও এই বিষয়গুলো তার বিপক্ষে যাচ্ছে।

বোর্ডের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও প্রায় চূড়ান্ত। ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগে নতুন অধিনায়ককে অন্তত ১৪ থেকে ১৫ মাস সময় দিতে চাওয়া হচ্ছে, যাতে তিনি নিজের মতো করে দল গুছিয়ে নিতে পারেন। সেই কারণেই নেতৃত্ব পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত এখনই নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।











