নাহিদ রানার বল নেট ছিঁড়ে বেড়িয়ে আসে!

অনুশীলন নেটেও নাহিদ রানা ছাড় দিতে নারাজ। সতীর্থদেরও আগ্রাসনের অগ্নিকূণ্ডে ছুড়ে দিতে দ্বিধা নেই।

নাহিদ রানার বল, সজোরে আঘাত করল গ্রিলে। সেই আঘাতের শব্দই বরং বলে দেয় ঠিক কতটা ক্ষিপ্র তিনি। পাশে থাকা এক দর্শক তো রীতিমত কেঁপে উঠেছেন, তিনি হয়ত ভেবেছিলেন বল জাল ছিঁড়ে বেড়িয়ে আসবে। বাইশ গজেও নিশ্চয়ই এমন ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করেন নাহিদ রানা।

অনুশীলন নেটেও তিনি ছাড় দিতে নারাজ। সতীর্থদেরও আগ্রাসনের অগ্নিকূণ্ডে ছুড়ে দিতে দ্বিধা নেই। এই যেমন মুশফিকুর রহিম তো ভয়ে প্রায় কুকড়ে গেলেন। এখানেই শেষ নয়!

লিটন দাসের চোখেমুখেও ভয় ধরিয়েছেন নাহিদ, দ্রুত গতির এক বাউন্সারে। লিটনের দিকে একটু অপরাধ বোধ নিতে এগিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু প্রতিপক্ষের সামনে নিশ্চয়ই থাকবে না কোন অপরাধবোধ। তিনি বরং আনন্দের সাথেই মেতে উঠবেন গতির তাণ্ডবলীলায়।

শ্রীলঙ্কায় এবারই প্রথম খেলতে এসেছেন নাহিদ রানা। অভিষেক তো তার হয়েছে সদ্যই। গেল বছরে তিন ফরম্যাটে অভিষেক হয়েছে তার। এরই মধ্যে গতির ঝড়ে নজর কেড়েছেন জগত জুড়ে। তার প্রশংসা তাসমান থেকে বঙ্গ সাগর তীরে আছড়ে পড়ছে।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে শুরুতেই এমন ঝলক দেখানো মোটেও নতুন নয়। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে পেসারদের ক্ষয় হয়। এই যেমন মুস্তাফিজুর রহমানের ইতিহাস তো পুরনো নয়। তবে নাহিদের সামনে উদাহরণ রয়েছে বটে। ইনজুরির সাথে পাঞ্জা লড়াইয়ে তাসকিন আহমেদ সেরা।

প্রায় ৪০০ বছর টিকে যাওয়া গল ফোর্টের মত না হোক, নিদেনপক্ষে বছর দশেক স্থায়িত্ব পাক এই তারকার আগ্রাসী রুপ।

 

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

Share via
Copy link