ক্রিকেটে এমন অনেক ব্যাটার এসেছেন, যাদের ব্যাট আলো ছড়িয়েছে অভিষেকের শুরু থেকেই। তবে নভজ্যোত সিং সিধুর ক্যারিয়ারে তেমনটা ঘটেনি। ১৯৮৩ সালে ভারতের সাদা জার্সিতে প্রথম তিন ইনিংসে তাঁর রান ছিল মাত্র ৩৯। ক্রিজে তার উপস্থিতি তখন এতটাই মন্থর ছিল যে তাঁকে উপহাস করে ‘স্ট্রোকলেস ওয়ান্ডার’ আখ্যা দেন প্রখ্যাত ধারাভাষ্যকার রজন বালা। কিন্তু দমে যাননি নভজ্যোত। সমালোচনার তিক্ততা কাটাতে দৈনিক ৩০০টি করে ছক্কার প্র্যাকটিস শুরু করে তিনি হয়ে ওঠেন ছক্কার রাজা।
দীর্ঘ চার বছরের সেই কঠোর তপস্যার ফল মেলে ১৯৮৭ ওডিআই বিশ্বকাপে। ফিফটি আর আকাশচুম্বী সব ছক্কা হাঁকিয়ে সমালোচকদের মুখ বন্ধ করে দেন সেই আসরে তিনি। ফলাফল? রজন বালার সুর পাল্টে যায়। তাঁর ভাষায় সিধু তখন হয়ে ওঠেন ‘পাম-গ্রোভ হিটার’।
১৯৬৩ সালে জন্মানো সিধুর ব্যাটিং ছিল উত্থান-পতনের গল্পে ভরা। কখনো তিনি পাহাড় বেয়ে ওঠা শামুকের মতো ধীরে খেলেছেন। আবার কখনো হয়ে উঠেছেন ব্রেকহীন ফেরারির মতো অদম্য। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে পোর্ট অব স্পেনে ১১ ঘণ্টার ম্যারাথন ব্যাটিং করে ডাবল সেঞ্চুরি করেছিলেন এই ডানহাতি ব্যাটার। একইভাবে, লঙ্কান স্পিনার মুত্তিয়া মুরালিধরনের বিরুদ্ধেও আরেক টেস্টে ঝড় বইয়ে দিয়েছিলেন তিনি। আট ছক্কায় সাজানো তাঁর সেই ১২৪ রানের বিধ্বংসী ইনিংস আজও ক্রিকেটমোদীদের পুলকিত করে।

এখানেই শেষ নয়। ১৯৯৮ সালে গোয়ালিয়রে অস্ট্রেলিয়ার শেন ওয়ার্নকেও দানবের মতো আক্রমণ করেছিলেন এই সিধুই। ম্যাচটিতে অপরাজিত ১৩৪ রানের এক ক্যামিও ইনিংস খেলে ভারতকে জয় এনে দেন তিনি। পাশাপাশি প্রথম ভারতীয় হিসেবে পাঁচটি ওডিআই শতকের মালিকও হন এই ম্যান ইন ব্লু ওপেনার।
শুধু ব্যাটিং নয়, ফিল্ডিংয়েও দু্র্ধর্ষ চিতাবাঘ হয়ে উঠেছিলেন ভারতের হয়ে ৫১টি টেস্ট ও ১৩৬টি ওডিআই খেলা সিধু। দৌঁড়ে এসে আকাশে ভাসমান বল তালুবন্দী করা কিংবা নিশ্চিত বাউন্ডারি প্রতিহতের অসাধারণ দক্ষতার কারণে পেয়েছিলেন ‘জন্টি সিং’ নামও!
ক্রিকেটের পাঠ চুকিয়ে ধারাভাষ্য, অভিনয় কিংবা রাজনীতি—যেখানেই হাত দিয়েছেন, সেখানেই সাফল্য পেয়েছেন ৬২ বছর বয়সী এই সাবেক ক্রিকেটার। ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম সেরা চরিত্রগুলোর একটি নভজ্যোত। যিনি নিজের ইচ্ছেমতো ব্যাটের গিয়ারকে নিয়ন্ত্রণ করে ছড়াতেন ব্যাটিং সৌন্দর্য। কুড়াতেন দর্শকদের ভালোবাসা আর নিন্দুকদের প্রশংসা।











