৩৫ বছর বয়সী এক ফুটবলার। পায়ের জাদুতে ছড়িয়ে যাচ্ছেন ফুটবল দুনিয়ায় মুগ্ধতা। কিন্তু একদিন হঠাৎ করেই থমকে গেল তাঁর বুটের গতি। হারিয়ে গেল ড্রিবলিংয়ের সব কারিকুরি। সড়ক দুর্ঘটনা যে জীবনটাই কেড়ে নিল হোসে আন্তোনিও রেয়েসের।
স্পেনের উত্রেরা শহরের এক অতি সাধারণ পরিবারে ১৯৮৩ সালে জন্ম রেয়েসের। চরম দারিদ্র্য ছিল তাঁর শৈশবের নিত্যসঙ্গী। ছোটবেলায় ভাই-বোনদের সাথে একই বিছানায় গাদাগাদি করে ঘুমাতে হতো তাঁকে। সেই অভাব থেকে তাঁর মুক্তি পাওয়ার একমাত্র চাবিকাঠি ছিল ফুটবল।
ঈশ্বরদত্ত প্রতিভার জোরে তিনি সেভিয়ার একাডেমি থেকে পৌঁছে যান ইউরোপের বড় সব মঞ্চে। আর্সেনালের হয়ে গড়েন অপরাজিত প্রিমিয়ার লিগ জয়ের অনন্য ইতিহাস। রিয়াল মাদ্রিদ, অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ আর সেভিয়ার জার্সিতেও উঁচিয়ে ধরেন অসংখ্য ট্রফি। স্পেন জাতীয় দলের হয়েও ২১ ম্যাচে ৪ গোল করেন তিনি। একজন ফুটবলারের জীবনে আর কীই-বা চাই?

কিন্তু তাঁর সাফল্যের সেই সোনালী দিনগুলো স্থায়ী হয়নি। নিয়তির নিষ্ঠুরতা গ্রাস করে নেয় সবকিছু। ১ জুন, ২০১৯। মাত্র ৩৫ বছর বয়সে উত্রেরা থেকে সেভিয়া যাওয়ার পথে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান এই উইঙ্গার। অথচ মৃত্যুর মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে নিজের ক্লাব এক্সট্রিমাদুরাকে অবনমন থেকে বাঁচিয়েছিলেন রেয়েস। মাঠের লড়াই শেষে তিনি তখন পরিকল্পনা করছিলেন এক সুন্দর আগামীর।
সেই আগামী আর কোনোদিন আসেনি তাঁর জীবনে। কারণ জীবন সবসময় আমাদের হাতে লেখা চিত্রনাট্য মেনে চলে না। নিজেদের সবটা দিয়ে আমরা লড়ি, তিল তিল করে স্বপ্ন সাজাই। অথচ হুট করেই সব বদলে যায়।
ঠিক সেভাবেই হয়তো হোসে আন্তোনিও রেয়েস অকালে বিদায় নিয়েছেন। তাঁর এই প্রস্থান আমাদের মনে করিয়ে দেয় জীবনের নশ্বরতা। ফুটবল বা জীবনের শিল্পও যে কতটা ক্ষণস্থায়ী তা-ই যেন স্পষ্ট করে তোলে রেয়েসের এই অসমাপ্ত মহাকাব্যের মতো ক্যারিয়ার।











