বায়ার্নে থিতু হওয়া কে এই সেনেগালিজ সেনসেশন এনদিয়ায়ে?

বায়ার্ন মিউনিখের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এনদিয়ায়ে কি পারবেন বুন্দেসলিগায় আলো ছড়িয়ে পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা আনতে? উত্তরটা সময়ের হাতে তোলা থাক।

কল্পনা করুন, আপনি খেলছেন আফ্রিকার এক অখ্যাত একাডেমিতে। কিন্তু হঠাৎ করেই মাত্র চার মাস পরে আপনি বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে বুন্দেসলিগা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগ পেলেন! অবাস্তব মনে হলেও, সেনেগালিজ বিস্ময় বালক বারা সাপোকো এনদিয়ায়ের ক্ষেত্রে এমনটাই ঘটেছে।

মাত্র ১৮ বছর বয়সে ফুটবল দুনিয়াকে রীতিমতো স্তম্ভিত করে দিয়েছেন এই মিডফিল্ডার। সেনেগালের মেখে শহর থেকে উঠে আসা বারা ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে যখন লোনে বায়ার্নে যোগ দেন, তখনো তার সিনিয়র পর্যায়ে কোনো ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা ছিল না। অথচ বুন্দেসলিগায় সেন্ট পাউলির বিপক্ষে জার্মান তারকা জামাল মুসিয়ালার বদলি হিসেবে মাঠে নেমেই তিনি বুঝিয়ে দেন কেন তাকে দলে নেওয়া হয়েছে।

বায়ার্নের স্পোর্টিং ডিরেক্টর ক্রিস্টোফ ফ্রুয়েন্ডের জহুরির চোখ এই হীরাকে চিনতে ভুল করেননি। অবিশ্বাস্য স্ট্যামিনা আর ট্যাকটিক্যাল ইন্টেলিজেন্সে সমৃদ্ধ এই কিশোরের একাধারে বক্স-টু-বক্স এবং অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার হিসেবে খেলার সক্ষমতা তারই প্রমাণ। গাম্বিয়ান ক্লাব গাম্বিনোস স্টার্স থেকে লোনে এসে মাত্র চার ম্যাচ খেলেই নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখলেন তিনি। বায়ার্নকে বাধ্য করলেন তাঁর সঙ্গে ২০৩১ সাল পর্যন্ত দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি করতে।

মূলত, পশ্চিম আফ্রিকার উদীয়মান ফুটবলারদের উন্নয়নে বায়ার্ন ও লস অ্যাঞ্জেলেস এফসির একটি যৌথ প্রকল্পের আওতায় অ্যালিয়াঞ্জ অ্যারেনায় কয়েকদিনের জন্য এসেছিলেন তিনি। নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েই এখন ব্যাভারিয়ানদের জার্সিতে থিতু হতে চলেছেন এনদিয়ায়ে। শীঘ্রই চুক্তির বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে জার্মান জায়ান্টদের পক্ষ হতে।

এদিকে, সদ্য সমাপ্ত ২০২৬ বিশ্বকাপেও নজর কেড়েছেন এনদিয়ায়ে। সেনেগালের জার্সি গায়ে বেলজিয়ামের বিপক্ষে রাউন্ড অব ৩২-এ অভিষেক হয় এই তরুণ তুর্কির। অতিরিক্ত সময়ে মাঠে নামলেও বুদ্ধিবৃত্তিক খেলার মাধ্যমে বিশ্লেষকদের মন জয় করে নেন তিনি।

তবে বায়ার্নে জশুয়া কিমিখ কিংবা পাভলোভিচের মতো তারকাদের ভিড়ে মধ্যমাঠে নিজেকে প্রমাণ করা সহজ নয়। ফুটবল বোদ্ধারা বলছেন, চুক্তি করলেও স্টার্টিং লাইনআপে অবস্থান পাকাপোক্ত করতে এনদিয়ায়েকে আরও পরিশ্রম করতে হবে। চোখেমুখে স্পষ্ট করতে হবে বল নিয়ন্ত্রণ, অ্যাসিস্ট আর গোলের ক্ষুধা।

বায়ার্ন মিউনিখের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এনদিয়ায়ে কি পারবেন বুন্দেসলিগায় আলো ছড়িয়ে পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা আনতে? উত্তরটা সময়ের হাতে তোলা থাক।

লেখক পরিচিতি

সাব এডিটর

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

Share via
Copy link