আর কোনো রূপকথা লেখা হলো না নরওয়ের!

আজ রাতে কোনো রূপকথা নেই নরওয়ের জন্য। ১২০ মিনিটের লড়াই শেষে পরতে হলো পরাজয়ের মুকুট। জুড বেলিংহামের একক নৈপুণ্যে নরওয়েকে ২-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে পা রাখল ইংল্যান্ড।

আজ রাতে কোনো রূপকথা নেই নরওয়ের জন্য। ১২০ মিনিটের লড়াই শেষে পরতে হলো পরাজয়ের মুকুট। জুড বেলিংহামের একক নৈপুণ্যে নরওয়েকে ২-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে পা রাখল ইংল্যান্ড।

ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে। নরওয়ে জানত, ইংল্যান্ডকে জায়গা ছেড়ে দিলে বিপদ হতে পারে। তাই মাঝমাঠে শক্ত লড়াইয়ের পাশাপাশি দ্রুত পাল্টা আক্রমণের কৌশল নেয় তারা। অন্যদিকে ইংল্যান্ড বলের দখল ধরে রেখে সুযোগ তৈরির চেষ্টা করছিল।

তবে ৩৬ মিনিটে ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ নিয়ে নরওয়েকে এগিয়ে দেন আন্দ্রেয়াস শেলদেরুপ। গোল হজম করার পর কিছুটা চাপে পড়ে যায় ইংলিশরা। কয়েক মিনিটের জন্য নরওয়ের আত্মবিশ্বাসও বেড়ে যায়। মনে হচ্ছিল, বিশ্বকাপে আরেকটি অঘটনের অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্ব।

কিন্তু বড় দলের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো কঠিন সময়ে ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষমতা। ইংল্যান্ডের জন্য সেই দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন জুড বেলিংহাম। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই সমতা ফেরান এই মিডফিল্ডার। ফলে ১–১ সমতায় শেষ হয় প্রথমার্ধ।

বিরতির পর দুই দলই একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও গোলের দেখা মেলেনি। ইংল্যান্ড আক্রমণের পর আক্রমণ চালালেও নরওয়ের রক্ষণ এবং গোলকিপার নাইল্যান্ডের দৃঢ়তায় বারবার প্রতিহত হয় ইংল্যান্ডের আক্রমণ। অন্যদিকে নরওয়েও পাল্টা আক্রমণে কয়েকবার ইংল্যান্ডকে চাপে ফেলেছিল। তবে শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ৯০ মিনিটে আর কোনো দলই ব্যবধান গড়ে তুলতে পারেনি। ফলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।

অতিরিক্ত সময় শুরু হতেই আবারও সামনে আসেন বেলিংহাম। ৯৩ মিনিটে দুর্দান্ত এক আক্রমণ থেকে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন তিনি। এই গোলের পর ইংল্যান্ড ২–১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। এরপর ম্যাচের বাকি সময় নরওয়ে মরিয়া হয়ে সমতায় ফেরার চেষ্টা চালায়। কিন্তু ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগ আর কোনো সুযোগ দেয়নি।

শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই উৎসবে মেতে ওঠে ইংল্যান্ড শিবির। ১২০ মিনিটের কঠিন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয় তারা। আর পুরো ম্যাচে জোড়া গোল করে দলের জয়ের স্থপতি হয়ে ওঠেন জুড বেলিংহাম।

লেখক পরিচিতি

স্টাফ রিপোর্টার

Share via
Copy link