এখন হয়তো কোনো এক কারাগারের অন্ধকূপের মধ্যে বেঁচে থাকতে হতো, অথচ আজ বিশ্বকাপের মাঠে আলো ছড়াচ্ছেন আমাদ দিয়ালো। প্রতিবছর পশ্চিম আফ্রিকা থেকে ফুটবলের স্বপ্ন দেখিয়ে ইউরোপে পাচার হওয়া হাজারো তরুণের ভিড়ে হারিয়ে যেতে পারতেন তিনিও। কিন্তু সব অন্ধকার পেরিয়ে আইভরি কোস্টের এই উইঙ্গার এখন বিশ্ব ফুটবলের এক নতুন নায়ক।
স্কোরবোর্ড শূন্য থাকা অবস্থায় ইকুয়েডরের সাথে ম্যাচের অন্তিম মুহুর্তে দুর্দান্ত এক গোলে আইভরি কোস্টকে জয় এনে দেন দিয়ালো। যার শৈশব কেটেছে আবিদজানের আজিদামের ঘনবসতিপূর্ণ গলিতে, যেখানে বেঁচে থাকাটাই ছিল এক চরম সংগ্রাম। আট বছর বয়সে স্থানীয় কোচ হামেদ মামাদু ত্রাওরে প্রথম তাঁর প্রতিভা আবিষ্কার করেন। পায়ে বল নিয়ে দিয়ালোর বুদ্ধিমত্তা দেখে কোচ তাকে নিজের ক্লাব ‘লিডার ফুট’-এ নিয়ে আসেন, যা বদলে দেয় তাঁর জীবন।

২০১৫ সালে ইতালিতে পাড়ি জমালেও ২০২০ সালে মানব পাচার ও জাল কাগজপত্রের কেলেঙ্কারিতে জড়ায় দিয়ালোর নাম। ভুয়া বাবা-মা সাজিয়ে অবৈধভাবে ইউরোপে আনার এই জটিল নেটওয়ার্ক অনেক তরুণের ক্যারিয়ার ধ্বংস করলেও, দিয়ালো দমে যাননি। বরং, আতালান্তার হয়ে সিরি ‘আ’তে অভিষেক ম্যাচেই গোল করে তিনি চমকে দেন দর্শকদের।
এরপর ২০২১ সালে ৩৭ মিলিয়ন পাউন্ডের চড়া দামে ওল্ড ট্রাফোর্ডে আগমন ঘটে দিয়ালোর। তবে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মূল দলে জায়গা না পেয়ে রেঞ্জার্স ও সান্ডারল্যান্ডে ধারে দিন কাটাতে হতো। সেইসব কঠিন দিনগুলোই দিয়ালকে মানসিকভাবে আরও পরিপক্ক করে তোলে। প্রতিভা যে কেবল মাঠে নয়, প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াইয়েও প্রকাশ পায় তা প্রমাণ করলেন জীবন যুদ্ধের এই লড়াকু সৈনিক।

কারাগারের নির্মম নিয়তিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে আমাদ দিয়ালো আজ হয়ে উঠেছেন ফুটবলপ্রেমী আফ্রিকার কোটি তরুণের অনুপ্রেরণা। যে পায়ে একসময় শিকল উঠতে যাচ্ছিল, সেই পায়ের জাদুতেই আজ উল্লাসে কাঁপছে পুরো আইভরি কোস্ট। ফুটবলের আঙিনায় অন্ধকার পেরিয়ে আলোর মিছিলে শামিল হওয়া আমাদ দিয়ালোর গল্পই তো আসল ফুটবল রোমাঞ্চ।










