প্রতিটা সেকেন্ডে যেন আক্রমণ করতে হবে, প্রতিটা মুহূর্তে ব্যস্ত রাখতে হবে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ। এই ব্রত নিয়েই মাঠে নেমেছিলেন ফোলারিন বালোগান, দিনশেষে দুইখানা গোল করে হয়ে দাঁড়িয়েছেন প্যারাগুয়ের দুঃস্বপ্ন।
ম্যাচের শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্র খেলেছে আগ্রাসী ফুটবল। তবে সেই আগ্রাসনের সবচেয়ে বড় প্রতীক ছিলেন বালোগান। আক্রমণের তৃতীয় ভাগে বল পেলেই তিনি ছুটে গেছেন ডিফেন্ডারদের দিকে। কখনও ডান প্রান্তে সরে গিয়ে জায়গা তৈরি করেছেন, কখনও আবার বক্সের ভেতরে ঢুকে গোলের গন্ধ খুঁজেছেন। তাঁর গতির সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে বারবার বিপাকে পড়েছে প্যারাগুয়ের রক্ষণ।
অবশ্য ম্যাচের সপ্তম মিনিটে দামিয়ান বোবাদিয়ার আত্মঘাতী গোলে এগিয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু নিজের পা থেকে গোল করার জন্য যেন মরিয়া হয়ে ওঠেন বালোগান। হয়ে ওঠেন আরও বেশি ভয়ঙ্কর। সফলতাও ধরা দিতে বেশি সময় নেয়নি।

প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সময়ে তাঁর আধিপত্য আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। একবার জালও কাঁপিয়েছিলেন বালোগান। তবে অফসাইডের কারণে সেই গোল বাতিল হয়। অবশেষে ৩১তম মিনিটে এল সেই প্রতীক্ষিত মুহূর্ত। যুক্তরাষ্ট্রের দ্রুতগতির আক্রমণে প্যারাগুয়ের রক্ষণ আবারও ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। আর সুযোগ পেয়ে নিখুঁত ফিনিশে বল জালে পাঠান বালোগান।
প্রথমার্ধের বাকি সময়েও একই তীব্রতায় খেলতে থাকেন তিনি। প্যারাগুয়ের ডিফেন্ডাররা যখন বিরতির অপেক্ষায়, তখনও বালোগান ছিলেন শিকারের সন্ধানে ওত পেতে। সেই অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে আবারও আঘাত হানেন তিনি। বক্সের ভেতরে সুযোগ পেয়েই দ্বিতীয়বারের মতো বল জালে জড়িয়ে দেন।
প্রথমার্ধ শেষে স্কোরবোর্ডে যুক্তরাষ্ট্রের নামের পাশে তিন গোল। তার মধ্যে দুটিই বালোগানের। তবে সংখ্যার চেয়েও বড় ছিল তাঁর প্রভাব। পুরো ৪৫ মিনিট তিনি প্যারাগুয়ের রক্ষণকে ব্যস্ত রেখেছেন, ভুল করতে বাধ্য করেছেন। ৭১ মিনিট মাঠে থেকেছেন, বলকে জালে পাঠানোর জন্য শট নিয়েছেন পাঁচটি। যার তিনটিই ছিল অন টার্গেট।

প্যারাগুয়ের বিপক্ষে বালোগানের পারফরম্যান্স ছিল একক আধিপত্যের গল্প। এমনএক গল্প, যেখানে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের জন্য কোনো স্বস্তি ছিল না, কোনো বিরতি ছিল না নিঃশ্বাস নেওয়ার। ছিল শুধু অবিরাম চাপ আর গোলের গন্ধে মাতাল এক দুর্দান্ত ফরোয়ার্ডের দাপট।










