হাইতির বিপক্ষে জয়ের আনন্দ উদযাপনের চেয়ে ব্রাজিল শিবিরে বড় হয়ে উঠেছে দুশ্চিন্তার অন্ধকার। ম্যাচের ৩৯ মিনিটে রাফিনহা ইনজুরির কবলে পড়ে মাঠ ছাড়াই খুশির আবহ রূপ নিয়েছে এক অজানা শঙ্কায়। তবে সেটা কতটা গুরুতর, তা বোঝার জন্য একাধিক মেডিকেল টেস্টের প্রস্তুতি নিচ্ছে ব্রাজিল।
ম্যাচের প্রথমার্ধেই ডান পায়ের হ্যামস্ট্রিংয়ে তীব্র চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন বার্সেলোনার এই ফরোয়ার্ড। মাঠে হঠাৎ বসে পড়ে ডান পা চেপে ধরে যখন তিনি চিকিৎসার ইশারা করছিলেন, তখনই বুক কেঁপে ওঠে ব্রাজিলের সমর্থকদের। এরপর বোর্নমাউথের তরুণ রায়ানকে তাঁর বদলি হিসেবে মাঠে নামানো হয়।
ডাগআউটে বসেও রাফিনহাকে চোট পাওয়া অংশে হাত দিয়ে বিষণ্ণ মুখে বসে থাকতে দেখা যায়। ম্যাচ শেষে ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশন জানিয়েছে, রাফিনহার ডান হ্যামস্ট্রিংয়ে তীব্র ব্যথা রয়েছে। তাঁর চিকিৎসা শুরু হয়েছে এবং শনিবার পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁর চোটের আসল গভীরতা ও মাত্রা জানা যাবে।

স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ব্রাজিলের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে রাফিনহার খেলা এখন ঘোর অনিশ্চয়তার মুখে। কোচ কার্লো আনচেলত্তিও রাফিনহার বর্তমান অবস্থা নিয়ে কোনো স্পষ্ট আশ্বাস দিতে পারেননি। তিনি শুধু জানিয়েছেন, পুরো বিষয়টি মূল্যায়নের পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে এবং সবকিছুই নির্ভর করছে ছোট ছোট ডিটেইলসের ওপর।
রাফিনহার এই অনাকাঙ্ক্ষিত চোটে দলের প্রধান তারকা ভিনিসিয়াস জুনিয়র এবং লুকাস পাকেতাও গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন। ভিনিসিয়াসের ধারণা, এটি রাফিনহার পুরনো চোটেরই পুনরাবৃত্তি। দলের প্রতিটি সদস্যই এখন প্রার্থনা করছেন যেন এই ফরোয়ার্ডের ইনজুরি গুরুতর কিছু না হয় এবং তিনি দ্রুতই দলে ফিরতে পারেন।
রাফিনহার প্রতি যে প্রত্যাশা সমর্থকদের মনে ছিল তা প্রথম ম্যাচে পূরণ করতে পারেননি। পজিশনের বদল ঘটিয়ে নেমেছিলেন হাইতির সাথে। অফসাইডে বাতিল না হলে এবারের বিশ্বকাপে নিজের প্রথম গোলটাও পেয়ে যেতেন। কিন্তু, এখন সবই যেন অর্থহীন হয়ে গেছে রাফিনহার ইনজুরির সামনে। এই তারকা দ্রুত সুস্থ না হলে ব্রাজিলকে যে ভুগতে হতে পারে তা বলাই বাহুল্য।











