মাঠের লড়াই ছাপিয়ে দেশের ক্রিকেটের অন্দরমহলে এখন ঝড় বইছে। দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে সিরাজগঞ্জে ক্রিকেটার তৈরির কারিগর বলে পরিচিত আব্দুল্লাহ আল মামুন এবারের বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কোচ নিয়োগের প্রাথমিক বাছাইয়ে বাদ পড়েছেন। তাঁর ভারী কণ্ঠের আক্ষেপ, ‘ক্রিকেটই আমার সব, অথচ সেটাই ছিনিয়ে নেওয়া হলো।’ খালেদ মাহমুদ সুজনও মামুনের কোচের দায়িত্বে না থাকাকে সিরাজগঞ্জ ক্রিকেটের জন্য বড় ক্ষতি হিসেবে দেখছেন।
তবে মামুনের এই কান্না শুধু ব্যক্তিগত হাহাকার নয়, আঙুল তুলছে বিসিবির নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতার দিকেও। জেলা ও বিভাগ পর্যায়ের কোচ নিয়োগে উঠেছে পক্ষপাতের গুরুতর অভিযোগ। আর এই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন হাই পারফরম্যান্স ইউনিটের প্রধান কোচ মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন।
অভিযোগ উঠেছে, নির্বাচিত ১৮ জন কোচের মধ্যে নয় জনই সালাহউদ্দিনের ঘনিষ্ঠ। তারা মাসকো একাডেমি বা বিকেএসপিতে তাঁর সাথে কাজ করেছেন। সিরাজগঞ্জের সংগঠকদের দাবি, অতীতে সালাহউদ্দিনের ছেলেকে জেলা দলে সুযোগ না দেওয়ার পুরনো রোষ থেকেই মামুনের এই বাদ পড়া। তবে এসব অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন সালাহউদ্দিন।

বিতর্ক এখানেই শেষ নয়। প্রশ্নফাঁস ও অদ্ভুত পরীক্ষা পদ্ধতির বিষয়েও উঠেছে অভিযোগ। বাংলাদেশ জিম্বাবুয়ে সফরে থাকা অবস্থায় সালাহউদ্দিন একাই ৪০ নম্বরের ইংরেজি প্রশ্নপত্র তৈরি করেন। যার কোনো নমুনা প্রশ্ন পরীক্ষার আগে প্রকাশ করা হয়নি। অর্ধেক তত্ত্বীয় ও ব্যবহারিক ভাগে বিভক্ত সেই কঠিন প্রশ্নের প্যাঁচে পড়ে ১৯ শতাংশ পরীক্ষার্থী নূন্যতম পাস নম্বরও পাননি।
এদিকে, স্বয়ং বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল স্বীকার করেছেন আগের প্রক্রিয়ার ত্রুটির কথা। তিনি সাফ জানিয়েছেন, ক্রিকেটের বিষয়ে কোনো আপস নেই। কিন্তু নিয়োগে কোনো তদ্বির চলবে না বলেও জানান তিনি।
বিতর্কের ঝড় সত্ত্বেও বিসিবি এখন দ্বিতীয় ধাপের নিয়োগে মনোযোগী। এবার প্রশ্ন হবে বাংলা ও ইংরেজিতে, আগে হবে ব্যবহারিক পরীক্ষা। কিন্তু তৃণমূলের যোগ্য কোচদের মনে এখনো সংশয় নেপথ্যের এই ‘খেলা’ কি সত্যিই থামবে?











