ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ২০তম শতক। ব্রায়ান লারাকে ছাড়িয়ে গেলেন শাই হোপ। সামনে কেবল ক্রিস গেইল। প্রতি সাড়ে সাত ইনিংসে একটা করে সেঞ্চুরি হাঁকানোর কীর্তি। আধুনিক ওয়ানডে ব্যাটারের মধ্যে যত গুণ থাকা দরকার সবই আছে তাঁর মধ্যে। তবুও আলোচনার টেবিলে শাই হোপ নামটা কমই উচ্চারিত হয়। সময়ের সেরা ওয়ানডে ব্যাটার হয়েও একপ্রকার উপেক্ষিত তিনি।
একপাশে যখন জন ক্যাম্ববেল আক্রমণ চালাচ্ছিলেন, অন্য পাশে শান্ত শাই হোপ প্রতিপক্ষকে হাতে থাকা উইলো দিয়ে আটকে দিচ্ছিলেন, যাতে দুর্গ দখল না হয়। পাঁচ ম্যাচ ধরে স্বভাবসুলভ ধার নেই ব্যাটে, সেটাকে সরিয়ে স্বরূপে ফিরতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ছিলেন। যার রোষানলে অসহায় হলো ভারতের বোলাররা।

ওয়ানডে ক্রিকেটে ৫০ ছুঁইছুঁই গড়। তবুও কেমন এক অদৃশ্য পর্দা তাকে ঢেকে রাখে। কোয়ালিটি, ক্লাস কিংবা পারফরম্যান্স, সবখানেই ১০০-তে অন্তত ৯০ পাবেন শাই হোপ। তবুও আলোকরশ্মিকে ওই অদৃশ্য পর্দা শুষে নেয়। অর্থাৎ ওয়ানডেতে অন্যতম সেরা ব্যাটার হয়েও অনেকটা আন্ডাররেটেড তকমা গায়ে লাগিয়ে নিয়েছেন।
প্রথম ম্যাচ হাতছাড়া হয়েছে। আশা দেখাতে পারেনি হোপের ব্যাটও। তবে দ্বিতীয় ম্যাচেই আসল চেহারা নিয়ে হাজির হোপ। ক্যাম্ববেলের ঝড়ের বিপরীতে শক্ত হাতে হাল ধরার কাজটা করেছেন। তবে আক্রমণাত্মক না হলেও সময়ের দাবি মিটিয়ে আগ্রাসী হয়েছে তাঁর ব্যাট। যদিও কলঙ্কমুক্ত ইনিংস তিনি খেলেননি। ২৭ রানের মাথায় জীবন পান তিনি। শতক হাঁকিয়ে সেটাকে কাজেও লাগালেন শতভাগ।

১০৪ রান করে যখন সাজঘরের পথ ধরলেন, ভারতীয় বোলাররা হাফ ছেড়ে বাঁচল যেন। মাত্র ৯৪ বল খেলেছেন, একেবারে নিয়ন্ত্রিত ইনিংসের পূর্ণ চিত্র বুঝি এটাকেই বলে। অবশ্য এমন মুগ্ধতা প্রতিনিয়তই ছড়িয়ে যান, তবুও আলোটা একটু পাশেই পড়ে শাই হোপের। তাতে কী, তিনি যে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের আশার আলো।










