দীর্ঘ অনিশ্চয়তা, একের পর এক স্থগিতাদেশ এবং দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ডের টানাপোড়েন পেরিয়ে অবশেষে বাস্তবতার পথে এগোচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত ভারত–বাংলাদেশ ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ।
এই সিরিজের ছয়টি ম্যাচের মিডিয়া স্বত্ব বিক্রির জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আনুষ্ঠানিকভাবে দরপত্র আহ্বান করেছে। ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু বাণিজ্যিক পদক্ষেপ নয়—বরং সিরিজ মাঠে গড়ানোর সবচেয়ে শক্তিশালী ইঙ্গিত।
মূলত ২০২৫ সালের আগস্টে এই সফর হওয়ার কথা থাকলেও রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং দুই বোর্ডের সম্পর্কে টানাপোড়েনের কারণে তা পিছিয়ে যায় ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে। এই সময়ে মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়া নিয়ে বিতর্ক এবং বাংলাদেশ দলের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বয়কটের সিদ্ধান্ত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। ফলে বিসিবি–বিসিসিআই সম্পর্ক নেমে আসে তলানিতে।

তবে তামিম ইকবাল বিসিবি সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই আন্তর্জাতিক বোর্ডগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ শুরু হয়। এই দরপত্র আহ্বানকে সেই পুনর্গঠন প্রক্রিয়ারই বাস্তব প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ক্রিকবাজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিসিবির এই পদক্ষেপকে বেশ চমকপ্রদ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। ভারতীয় সম্প্রচার প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে পাঠানো নথিতে ২০২৬ ও ২০২৭ সালের একাধিক দ্বিপাক্ষিক হোম সিরিজের মিডিয়া ও সম্প্রচার স্বত্বের জন্য আগ্রহপত্র ও আর্থিক প্রস্তাব চাওয়া হয়েছে। এর মধ্যেই স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ভারতের বাংলাদেশ সফর।
চূড়ান্ত সূচি অনুযায়ী, তিনটি ওয়ানডে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ১, ৩ ও ৬ সেপ্টেম্বর। এরপর তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ মাঠে গড়াবে ৯, ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর। ভারতীয় দলের বাংলাদেশে আসার সম্ভাব্য তারিখ ২৮ আগস্ট।

শুধু ভারত সিরিজই নয়, একই দরপত্র কাঠামোতে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ হোম সিরিজও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে—ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুই টেস্টের সফর, ইংল্যান্ডের দুই টেস্টের সফর এবং পাকিস্তানের পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ।
বিসিবি জানিয়েছে, দরপত্রের নথি ২ জুলাই থেকে সংগ্রহ করা যাবে এবং প্রস্তাব জমা দেওয়ার শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ২২ জুলাই।
অন্যদিকে সিরিজ নিয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিচ্ছে বিসিসিআইয়ের অবস্থানও। ভারতীয় বোর্ডের সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া জানিয়েছেন, বিসিবির প্রশাসনিক পরিবর্তন নিয়ে তাদের কোনো উদ্বেগ নেই। তারা কেবল ভারত সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ীই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

সব মিলিয়ে দুই দেশের ক্রিকেট সম্পর্কে ধীরে ধীরে বরফ গলার ইঙ্গিত মিলছে। সেই ধারা অব্যাহত থাকলে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ভারত–বাংলাদেশ সিরিজ মাঠে গড়ানোর অপেক্ষা আর খুব বেশি দীর্ঘ হবে না বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।










