অস্ট্রেলিয়ার হয়ে দীর্ঘ সময় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা অলরাউন্ডার মোজেস হেনরিকস এবার নতুন পরিচয়ে ফিরছেন। জন্মভূমি পর্তুগালের হয়ে ২০২৮ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ৩৯ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার। আগস্টে ফিনল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ইউরোপীয় সাব-রিজিওনাল বাছাইপর্ব দিয়েই শুরু হবে তাঁর পর্তুগালের বিশ্বকাপ অভিযাত্রা।
পর্তুগালে ক্রিশ্চিয়ানোর রোনালদের মতই মাদেইরাতে জন্ম নেওয়া হেনরিকস ছোটবেলাতেই পরিবারের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমান। পরে সেখানেই গড়ে ওঠে তাঁর ক্রিকেট ক্যারিয়ার। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে তিন সংস্করণ মিলিয়ে ৪৪ ম্যাচ খেলেছেন তিনি। তবে ২০২১ সালের পর আর জাতীয় দলে থিতু হতে পারেননি হেনরিকস। দীর্ঘ বিরতির পর এবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার নতুন পথ খুঁজে পেয়েছেন তিনি। জড়াচ্ছেন জন্মভূমির জার্সি শরীরে।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) নিয়ম অনুযায়ী, কোনো পূর্ণ সদস্য দেশের হয়ে খেলার পর সহযোগী সদস্য দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে হলে তিন বছরের বাধ্যতামূলক বিরতি পালন করতে হয়। সেই সময়সীমা পূর্ণ হওয়ায় এখন পর্তুগালের হয়ে মাঠে নামতে আর কোনো বাধা নেই হেনরিকসের।
অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় দলের বাইরে ঘরোয়া ও ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটেও তাঁর সাফল্যের ঝুলি বেশ সমৃদ্ধ। ক্যারিয়ারে হেনরিকস জিতেছেন ১১টি বড় শিরোপা। সিডনি সিক্সার্সের হয়ে ২০১১-১২ মৌসুমে বিগ ব্যাশের প্রথম শিরোপা জয়ের পর ২০১৯-২০ ও ২০২০-২১ মৌসুমে অধিনায়ক হিসেবে টানা দুটি ট্রফি এনে দেন দলকে। ২০১৬ সালে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের আইপিএল শিরোপা জয়েও ছিল তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান।

এ ছাড়া নিউ সাউথ ওয়েলসের হয়ে জিতেছেন পাঁচটি ঘরোয়া শিরোপা , যার মধ্যে রয়েছে ২০১৩-১৪ শেফিল্ড শিল্ড, তিনটি ওয়ানডে কাপ এবং ২০০৮-০৯ কেএফসি টোয়েন্টি২০ বিগ ব্যাশ। পাশাপাশি দুবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টি-টোয়েন্টি জয়ের স্বাদও পেয়েছেন তিনি। এবার সেই সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতাই বিশ্বকাপ বাছাইয়ের মঞ্চে পর্তুগালের সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।










