বল পায়ে জাদু দেখিয়ে কোটি মানুষের হৃদয় জয় করেছিলেন দিয়েগো ম্যারাডোনা। তবে অনেকের বিশ্বাস, মাঠের বাইরেও যেন ভবিষ্যৎ আঁচ করার এক অদ্ভুত ক্ষমতা ছিল তাঁর। ২০১৮ সালে করা একটি মন্তব্য, ৮ বছর পর এসে যেন নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
রাশিয়া বিশ্বকাপ চলাকালে এক সাক্ষাৎকারে ম্যারাডোনা বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপ হলে বিজ্ঞাপনের স্বার্থে ম্যাচের কাঠামোতেই পরিবর্তন আনার চেষ্টা হবে। তিনি তখন স্মরণ করিয়ে দিয়েছিলেন, ১৯৯৪ বিশ্বকাপের আগে যুক্তরাষ্ট্র ম্যাচকে ২৫ মিনিটের চারটি পর্বে ভাগ করার প্রস্তাব দিয়েছিল।
ম্যারাডোনা বলেছিলেন, “আমেরিকানরা তো বিজ্ঞাপনের স্বার্থেই খেলাটিকে ২৫ মিনিটের চারটি পর্বে ভাগ করতে চেয়েছিল।”

২০২৬ বিশ্বকাপে ম্যাচ চার ভাগে ভাগ করা না হলেও বাধ্যতামূলক হাইড্রেশন ব্রেকের সময় সম্প্রচারে অতিরিক্ত বিজ্ঞাপন দেখানো হচ্ছে। আর সেটিই আবার সামনে এনে দিয়েছে ম্যারাডোনার সেই পুরোনো মন্তব্য।
বিশ্বকাপের আয়োজক নির্বাচন নিয়েও তীব্র সমালোচনা করেছিলেন তিনি। মেক্সিকো সম্পর্কে তাঁর মন্তব্য ছিল, “মেক্সিকো এটা পাওয়ার যোগ্যই না। জার্মানি বা ব্রাজিলের মুখোমুখি হলেই তারা টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যায়।”
যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডাকেও ছাড় দেননি এই কিংবদন্তি। তাঁর ভাষায়, “ওদের ফুটবল নিয়ে খাঁটি আবেগ নেই। আর কানাডিয়ানরা বড়জোর ভালো ইস্কিয়ার হতে পারে।”
শুধু ম্যারাডোনা নন, চলতি বিশ্বকাপে হাইড্রেশন ব্রেক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আরও অনেক পরিচিত ফুটবল ব্যক্তিত্ব। সাবেক ইংল্যান্ড তারকা অ্যালান শিয়েরারের মতে, এই বিরতি ম্যাচের স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট করছে এবং এর পেছনে বাণিজ্যিক স্বার্থও থাকতে পারে।

টমাস টুখেল মনে করেন, এমন বিরতি ফুটবলের স্বাভাবিক চরিত্র বদলে দিচ্ছে। আর মার্সেলো বিয়েলসার মতে, ফুটবলের সবচেয়ে বড় সৌন্দর্যই হলো এর নিরবচ্ছিন্ন প্রবাহ।
সবচেয়ে কঠোর মন্তব্য এসেছে ইয়ুর্গেন ক্লপের কাছ থেকে। তাঁর অভিযোগ, ফুটবল ধীরে ধীরে বাণিজ্যের কাছে জিম্মি হয়ে পড়ছে।
অবশ্য সবাই এর বিরোধিতা করেননি। ভার্জিল ফন ডাইক বলেছেন, প্রচণ্ড গরমে খেলোয়াড়দের সুরক্ষার জন্য হাইড্রেশন ব্রেক যৌক্তিক। তবে তুলনামূলক ঠান্ডা আবহাওয়ায় একই নিয়মের প্রয়োজন আছে কি না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি। স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তেও খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার স্বার্থে এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়েছেন।

বিতর্ক চলতেই পারে। কিন্তু ২০১৮ সালে ম্যারাডোনা যে আশঙ্কার কথা বলেছিলেন, ২০২৬ বিশ্বকাপের বাস্তবতা সেটিকে আবারও নতুন করে আলোচনায় এনে দিয়েছে।











