বড় স্বপ্নের পর্তুগালের সামনে ভঙ্গুর ক্রোয়েশিয়া!

পর্তুগাল যদি নিজেদের মিডফিল্ড ও উইংয়ের গতি কাজে লাগিয়ে নিখুঁত আক্রমণ করতে পারে, তবে ক্রোয়েশিয়াকে দমিয়ে রাখা কঠিন হবে না।

শিরোপার অন্যতম দাবিদার হয়ে বিশ্বকাপে আসা পর্তুগালের সামনে এখন ক্রোয়েশিয়া নামের বাধা। শেষ ষোলোতে যাওয়ার পথে ব্লকবাস্টার লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ইউরোপের এই দুই পরাশক্তি। রবার্তো মার্তিনেজের অধীনে একঝাঁক তারকা নিয়ে নকআউটের টিকিট কাটলেও পর্তুগিজদের ওপর এখন আকাশসম প্রত্যাশার চাপ।

পর্তুগালের এই দলকে গত দুই দশকের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী স্কোয়াড বলা যায়। বিশেষ করে ব্রুনো ফার্নান্দেস কিংবা ভিতিনহা মতো বড় বড় তারকারা মিডফিল্ডে খেলছেন। আছেন হাজার গোল করা থেকে অল্প দূরে থাকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। তবে নামের প্রতি সুবিচার করে সবাই যে খুব ভালো করতে পারছেন, এমনটা কিন্তু বলা যাবে না।

গ্রুপ পর্বে অপরাজিত থাকলেও পর্তুগিজদের বড় সমস্যা এখন গোলস্কোরিং আর দুর্বল ফিনিশিং নিয়ে। চেনা ছন্দের অভাবে তিনটি ম্যাচের মধ্যে দুই ম্যাচেই তাদের ড্র করতে হয়েছে। নকআউটের এক ম্যাচের লড়াইয়ে তাই রাফায়েল লিয়াওদের ফিনিশিংয়ের ধার বাড়ানো ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই। 

অন্যদিকে, ক্রোয়েশিয়া তাদের সোনালী যুগের সেই চেনা দলকে অনেক পেছনে ফেলে এসেছে। লুকা মদ্রিচ এবং মাতেও কোভাচিচের মতো অভিজ্ঞরা থাকলেও এই দল এখন পার হচ্ছে এক কঠিন ট্রানজিশন পিরিয়ড। রক্ষণে জোশকো গাভার্দিওলদের ওপর থাকবে পর্তুগালকে রুখে দেওয়ার মূল দায়িত্ব।

পর্তুগাল যদি নিজেদের মিডফিল্ড ও উইংয়ের গতি কাজে লাগিয়ে নিখুঁত আক্রমণ করতে পারে, তবে ক্রোয়েশিয়াকে দমিয়ে রাখা কঠিন হবে না। ভাঙা-গড়ার মধ্যে থাকা ক্রোয়েশিয়ার জন্য হবে সবচেয়ে বড় অগ্নিপরীক্ষা হবে রোনালদোদের আক্রমণকে থামিয়ে কাউন্টার অ্যাটাকে গোল করা।

শেষ ষোলোতে জায়গা করার পথে অন্যতম হাইভোল্টেজ ম্যাচ হতে যাচ্ছে পর্তুগাল আর ক্রোয়েশিয়ার এই লড়াই। দুই দলের কেউই অন্য কাউকে ছেড়ে কথা বলবে না, কিন্তু, ৯০ মিনিট শেষে হাসি মুখে মাঠ ছাড়বে শুধু এক দল। 

লেখক পরিচিতি

বেঁচে আছি না পড়া বইগুলো পড়ব বলে

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link