২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালে পরাজয়ের বিষাদ বুকে নিয়ে আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্ক্যালোনি ফিরেছিলেন শিকড়ের টানে। দেশটির সান্তা ফে প্রদেশের শান্ত শহর পুজাতো তখন প্রিয় নায়ককে বরণে রূপ নেয় উৎসবের নগরীতে। কিন্তু বিদায়বেলাটা এল একদম নিভৃতে। দরজার এক টুকরো সাধারণ কার্ডবোর্ডে কয়েক শব্দের এক চিঠি রেখে গেলেন নগরবাসীর জন্য তিনি।
টানা পাঁচ দিন পুজাতোর মানুষের নিবিড় ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছেন স্ক্যালোনি। মাত্র তিন হাজার মানুষের এই ছোট্ট জনপদ যেন পরিণত হয়েছিল উচ্ছ্বসিত এক জনসমুদ্রে। সবারই ভিড় স্ক্যালোনির পৈতৃক নিবাসের সামনে। কেউ অটোগ্রাফ চান, কেউ বা শুধু কাছ থেকে এক পলক দেখতে চান আধুনিক আর্জেন্টাইন ফুটবলের রূপকারকে।
এদিকে, শিকড়ে ফিরে স্ক্যালোনি যেন হারিয়ে যান তার শৈশবে। চেনা রাস্তায় পুরোনো সাইকেলটা নিয়ে প্যাডেল ঘুরিয়ে ঘুরে বেড়ান তিনি অবসরের আনন্দে।

গিয়েছিলেন বিখ্যাত আলুমনি দে কাসিলদা ক্লাবেও। সেখানে গ্যালারিতে বসে উপভোগ করেন কাসিলদা লিগের ম্যাচ। যে স্পোর্তিভো মাতিয়েনসো ক্লাবে তার ফুটবলের হাতেখড়ি, তাদের খেলা দেখে রোমন্থন করেন স্মৃতিও।
এরই মাঝে এক খুদে ভক্তের আবদারে এক বিশেষ প্রতীকী চুক্তিতে সই করেন আলবিসেলেস্ত কোচ। ‘লা স্কালোনেতা’র খুদে প্রতিরূপ উপহার দিয়ে সেই শিশু ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত তাকে আর্জেন্টিনার কোচের দায়িত্বে থাকার বায়না করে বসে। এই নিঃস্বার্থ ভালোবাসার মুহূর্তগুলো হয়তো ফাইনাল হারের ক্ষতে কিছুটা হলেও প্রলেপ দিয়েছে।
তাই শনিবার রাতে নিভৃতে ছেলেবেলার শহর ছাড়ার আগে নগরটির বাসিন্দাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে ভোলেননি এই আর্জেন্টাইন। বাবা-মায়ের বাড়ির দরজায় তিনি ঝুলিয়ে রেখে যান এক টুকরো কার্ডবোর্ডের চিঠি। লেখেন: ‘লিও গত রাতে চলে গেছে! এত ভালোবাসার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ’।











