ব্রাজিলের হৃদয় জুড়ে ভিনিসিয়াস

সাও পাওলো-রিও ডি জেনিরোর হাজারো অতৃপ্ত স্বপ্ন কি তবে এই ভিনিসিয়াসের পায়েই পূরণ হবে?

ব্রাজিলের আশা-ভরসার পুরোটাই নির্ভর করছে ভিনিসিয়াস জুনিয়রের ওপর। আর সেই ভরসার প্রতিদান তিনি দিয়ে চলেছেন। মরক্কোর পর হাইতির বিপক্ষেও আবারও সেই একই পারফরম্যান্স।

এই বিশ্বকাপের দ্বিতীয় গোল পেয়েছেন। বাঁ প্রান্ত দিয়ে ক্রমাগত আক্রমণ করেছেন। ভিতরে ঢুকেছেন। দলের আক্রমণ একাই নিয়ন্ত্রন করেছেন। নিচে নেমে লেফট ব্যাটে ডিফেন্সের দায়িত্বও সামলেছেন।

তিনটা গোলেই কোনো না কোনো ভাবে জড়িয়ে আছে তাঁর নাম। দু’টো অ্যাসিস্ট করেছেন। তিনি আক্রমণ শানিয়েছেন বলেই ম্যাথেউস কুনহার পক্ষে গোল করা সহজ হয়েছে।

বিশ্বকাপটা ভিনিসিয়াস জুনিয়রের জন্য আকাশ সমান চাপের মঞ্চ। ভিনিসিয়াস জানেন, হয়তো এবার, না হয় কখনও নয়। তাঁর পুরো ক্যারিয়ারটা দাঁড়িয়ে আছে এই বিশ্বকাপের ওপর। আমেরিকা-মেক্সিকোতে তিনি যা করবেন, সেটার ওপর ভিত্তি করেই ইতিহাস তাঁকে মনে রাখবে।

অন্তত প্রথম দুইটা ম্যাচে তিনি সেটা করতে পেরেছেন। বিশ্বকাপে মাতাতে শুরু করেছেন। ব্রাজিল দলে মন বসতে শুরু করেছে ভিনিসিয়াসের।

তিনি কি করতে পারেন, রিয়াল মাদ্রিদে সেটা প্রায়শই দেখা যায়। ক্লাব ফুটবলের বড় নাম ভেঙে পড়ে জাতীয় দলে আসলেই। তবে, এবার চিত্রটা ভিন্ন। ইতিহাসের ডাক পেতে শুরু করেছেন ভিনিসিয়াস।

নেইমার জুনিয়রের আগের সেই সুদিন নেই। তিনি বয়স আর চোটের সঙ্গে লড়ছেন। কবে ফিরবেন একাদশে কেউ জানেন না। রাফিনহা নিজের সেরা ছন্দে নেই। ইনজুরি নিয়ে হাইতির বিপক্ষে মাঠ ছেড়েছেন।

এই ব্রাজিলে তাই ভিনিসিয়াসকে শুধু গোল করলে হবে না। তাকে গোল বানাতে হবে। তাকে নেতৃত্ব দিতে হবে। তাকে দলের প্রাণভোমরা হয়ে উঠতে হবে।

‘হেক্সা’ শব্দটাই এখন যেন ব্রাজিলের জন্য অভিশাপ। তবে এবার যে ভাবেই হোক ব্রাজিলের হেক্সা হবে। হয় ব্রাজিল বিশ্বকাপ জিতবে ষষ্ঠবারের মত, নয়ত টানা ষষ্ঠবারর মত বিশ্বকাপ বঞ্চিত হবে। ব্রাজিলের ভবিষ্যৎ কোন হেক্সার পথে যাবে, সেটা নির্ভর করবে ওই একজনের ওপর – ভিনিসিয়াস জুনিয়র।

সাও পাওলো-রিও ডি জেনিরোর হাজারো অতৃপ্ত স্বপ্ন কি তবে এই ভিনিসিয়াসের পায়েই পূরণ হবে?

লেখক পরিচিতি

সম্পাদক

Share via
Copy link