ভারতীয় ক্রিকেটে উইকেটরক্ষক নির্বাচন এখন আর শুধু একটি পজিশনের প্রশ্ন নয়, বরং এটি হয়ে উঠেছে একটি পূর্ণাঙ্গ ট্যাকটিকাল অ্যাপ্রোচ। চলমান বিজয় হাজারে ট্রফি সেই সমীকরণকে আরও জটিল করেছে। একের পর এক ব্যাটিং ঝড়, রানের পাহাড় আর ব্যক্তিগত কীর্তির ভিড়ে নির্বাচকদের কাছে এখন বড় প্রশ্ন, ওয়ানডেতে কেএল রাহুলের উত্তরসূরি কে?
২০২৫ সাল জুড়ে ওয়ানডে ক্রিকেটে লোকেশ রাহুল ছিলেন ভারতের মিডল অর্ডারের মেরুদণ্ড। ১৫ ম্যাচে ৫২.৪৩ গড়ে ৩৬৭ রান করেছেন তিনি। চ্যাম্পিয়নস ট্রফি তে দল কে চ্যাম্পিয়ন করতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানও রেখেছেন।
তবে রাহুলের বয়স এখন ৩৩, আর ২০২৭ বিশ্বকাপ নাগাদ তিনি পৌঁছে যাবেন ৩৫ এ, সেই বয়সে তাঁকে উইকেটকিপিংয়ের অতিরিক্ত চাপ না দিয়ে একজন খাঁটি ব্যাটার হিসেবে ব্যবহার করাই যুক্তিযুক্ত। সেক্ষেত্রে কে হতে যাচ্ছেন বিকল্প?

৫০ ওভারের ক্রিকেটে ঈশান কিশান এই মুহূর্তে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন । বিজয় হাজারে ট্রফির শুরুতেই ৩৩ বলে সেঞ্চুরি করে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, জাতীয় দলে ফেরার ক্ষুধা এখনও তীব্র। বিশ্বকাপের বাকি আরও দুই বছর, এটাই তাঁকে পরিপূর্ণভাবে গড়ে তোলার আদর্শ সময়।
ঋষাভ পান্ত সাম্প্রতিক সময়ে বারবার দলে ঢুকছেন, আবার বাদ পড়ছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে দলে থাকলেও একটি ম্যাচও খেলার সুযোগ পাননি। গৌতম গম্ভীরের নেতৃত্বাধীন টিম ম্যানেজমেন্টের এই সিদ্ধান্ত স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয় এই ফরম্যাটে পান্ত তাঁদের প্রথম পছন্দ নন।
সবকিছু স্বাভাবিক থাকলে ওয়ানডেতে ভারতের প্রথম পছন্দের উইকেটকিপার হিসেবে কেএল রাহুলই থাকবেন। তবে যদি দল তাঁকে কিপিংয়ের চাপ থেকে মুক্ত করতে চায়, তাহলে সবচেয়ে বাস্তবসম্মত বিকল্প হিসেবে উঠে আসে ঈশান কিশানের নাম।

ঝাড়খণ্ডের এই ক্রিকেটার শুধু ফর্মেই এগিয়ে নন, বরং ভবিষ্যতের পরিকল্পনার সঙ্গেও মানানসই। ধারাবাহিকতা, বয়স ও অভিযোজন ক্ষমতার বিচারে বর্তমান মুহূর্তে তিনি ঋষাভ পান্তের চেয়েও বেশি গ্রহণযোগ্য বিকল্প, এ কথা বলাই বাহুল্য।










