যেভাবে ফাইনালে নিউজিল্যান্ড!

অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণ আফ্রিকা সফর বাতিল হয়েছে।

টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের আগে এটা মাঠে গড়াবে এমন নিশ্চয়তাও আসলে দেওয়া যাচ্ছেনা। এতে করে নিউজিল্যান্ড প্রথম দল হিসেবে প্রথম টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে চলে গেছে। লর্ডসে আরেকটা ফাইনাল খেলবে তারা। ফাইনালের আরেক জায়গার জন্যে অস্ট্রেলিয়া, ভারত আর ইংল্যান্ড ভালভাবেই প্রতিযোগিতার দৌড়ে আছে। সেই জায়গাটা এই তিন দলের কে নিতে পারে?

নিউজিল্যান্ড কিভাবে ফাইনালে গেলো? বাকী ফাইনালিস্ট হিসেবে ওঠার জন্য কারা এগিয়ে? কাকে কী করতে হবে? আসুন খতিয়ে দেখা যাক।

  • নিউজিল্যান্ড কি ফাইনালে পৌছেই গেল?

হ্যা। পয়েন্ট টেবিলে নিউজিল্যান্ডের পরে আছে অস্ট্রেলিয়া। তাঁদের যে পয়েন্ট তাতে করে নিউজিল্যান্ডকে পেছনে ফেলার সুযোগ নেই।

ভারত আর ইংল্যান্ডও প্রতিযোগিতার দৌড়ে আছে। কিন্তু তাঁরা নিজেদের মধ্যে এখনও খেলেনি। ফলে তাঁদের নিজেদের মধ্যের খেলার পর যে জিতবে, খুব সম্ভব হলে সে নিউজিল্যান্ডের পয়েন্টের সত্তর শতাংশ অতিক্রম করতে পারে। এর মানে নিউজিল্যান্ড তো ফাইনালেই! এর মাঝে আবার নিউজিল্যান্ড উঠে গেছে টেস্ট র‍্যাংকিং-এর এক নম্বরে।

পড়তে পারেন: নিউজিল্যান্ড কী আসলেই এক নম্বর?

  • বাকি জায়গাটা কী অস্ট্রেলিয়ার?

এখনও নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। তবে বক্সিং ডে টেস্টে ভারতের সাথে স্লো ওভার রেটের কারণে তাঁদের চার পয়েন্ট কাটা হয়েছিল, সেটা বেশ ভোগাবে মনে হচ্ছে। এমনকি ঐ চার পয়েন্ট না হারালে তাঁরা হয়তো নিউজিল্যান্ডকে পেছনেও ফেলতে পারত।

নিউজিল্যান্ডের এখন পয়েন্টের শতাংশ ৭০; অস্ট্রেলিয়ার যা ৬৯.১৭।  এখন অস্ট্রেলিয়ার ফাইনালে উঠতে গেলে ভারত আর ইংল্যান্ডের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে। কিন্তু সেখানেও যদি কিন্তুর ব্যাপার আছে। ভারত আর ইংল্যান্ড সিরিজের পয়েন্ট ভাগাভাগি হতে হবে এমনভাবে যেন তা অস্ট্রেলিয়ার নিচেই থাকে। তার জন্যে ভারত-ইংল্যান্ড সিরিজ ড্র হতে হবে, অথবা ইংল্যান্ডকে ১-০, ২-০ বা ২-১ এ সিরিজ জিততে হবে। তবে ভারত ১-০ তে সিরিজ জিতলেও চলবে ।

  • ভারতের ফাইনালে যেতে কি করতে হবে?

ভারতও টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে যাওয়ার দৌড়ে টিকে আছে। তবে তার জন্যে চার ম্যাচের টেস্ট সিরিজ থেকে ভারতকে মোট ৭০ পয়েন্ট বাগাতে হবে। এজন্যে ভারতকে এই সিরিজে ন্যূনতম ২-১ ব্যাবধানে সিরিজ জিততে হবে। এতে দুই ম্যাচ জয়ের জন্যে ৬০ (প্রতি ম্যাচ জয়ে ৩০ পয়েন্ট) আর একটা ড্রয়ের জন্যে ১০ পয়েন্ট পাবে ভারত। আর ৩-০, ৩-১, ৪-০ তে জিতলে তো কথাই নেই!

  • ইংল্যান্ডের সম্ভাবনা কতটুকু?

ইংল্যান্ডের ফাইনালে পৌছাতে এই সিরিজ থেকে ৮৭ পয়েন্ট অর্জন করতে হবে। তার মানে তাঁদের ন্যূনতম তিন ম্যাচ জিততেই হবে। তবে তাতে ইতিহাস কিন্তু ইংলিশদের পক্ষে নেই। শেষ যেবার ভারতে কোন দল তিন টেস্ট জিতেছিল সেটা ছিল ১৯৮৩-৮৪ এর ঘটনা। অসাধ্য এই কাজ সাধন করেছিল সে সময়ের ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

টেস্ট ম্যাচকে আকর্ষণীয় করতে আইসিসির চালু করা এই টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ কিন্তু সাদা পোশাকেও বেশ থ্রিল এনে দিচ্ছে। প্রত্যেকটা ম্যাচের একটা নতুন মোটিফ চালু হচ্ছে। আর হবে নাই বা কেন? এটাই তো উদ্দেশ্য ছিল!

লেখক পরিচিতি

আদ্যোপান্ত স্টোরিটেলার!

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Share via
Copy link