বিকট সুন্দরের ফাঁক গলা স্ক্যাম

কলম্বো শহর যত সুন্দর, ততই নানা রকম স্ক্যামে ভরপুর। দেশ থেকে আসার সময় কে যেন বলেছিল, ‘এই শহরের প্রতিটা মানুষই একেকজন দালাল।’ কথাটা কানে বাজছে এখনও। গৌতম বুদ্ধের নানারকম স্থাপত্য চারপাশে, প্রতিটা রাস্তায় - অথচ সেই রাস্তায় হাঁটা মানুষগুলো জাগতিক মোহ-মায়াতেই আটকে আছে।

কলম্বো শহর যত সুন্দর, ততই নানা রকম স্ক্যামে ভরপুর। দেশ থেকে আসার সময় কে যেন বলেছিল, ‘এই শহরের প্রতিটা মানুষই একেকজন দালাল।’ কথাটা কানে বাজছে এখনও। গৌতম বুদ্ধের নানারকম স্থাপত্য চারপাশে, প্রতিটা রাস্তায় – অথচ সেই রাস্তায় হাঁটা মানুষগুলো জাগতিক মোহ-মায়াতেই আটকে আছে।

শহরটায় আছি, তিনদিনও হতে পারেনি – এর মধ্যেই বিচিত্র সব অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। গল ফেসের সামনেই সমুদ্র। সন্ধ্যায় বিরাট বিরাট গর্জনের ঢেউ ওঠে। সেইখানেই দুই জন সাঁপুড়ে বাঁশি বাজাচ্ছেন, সাপের খেলা দেখান। এক পাশে সমুদ্রের গর্জন আরেক পাশে সাঁপুড়ের বাঁশি।

এটা বাংলাদেশিদের জন্য নিত্যদিনকার দৃশ্য নয়। অপার্থিব কোনো জায়গা মনে হল। কৌতুহল বশত সামনে এগিয়ে যেতেই বিপত্তি। এক সাঁপুড়ে তাঁর ঝুড়ি থেকে বের করল বিকট এক সাপ। যেন এখনই ফণা তুলবে। ভয়ে ঢোক গিলতেও কষ্ট হচ্ছে।

কিছুই না, সাপুড়েদের বাহিনী বখশিশ চায়। জিম্মি করে বখশিশ। সেটাও ৫০ শ্রীলঙ্কান রুপি দিলে হবে না। ১০০ রুপি দিয়ে তবেই নিস্তার মিলল। গড়পড়তা কলম্বোর মানুষজন খুবই ছিমছাম। ট্যুরিস্ট বুঝতে পারলে যতটা সম্ভব পাশে থাকার চেষ্টা করে, সেটা ভাষাগত দিকে যতই গণ্ডগোল হোক না কেন।

এর মধ্যেও কিছু ব্যতিক্রম আছে। যেমন হল একটা রেস্টুরেন্টে ঢুকে। ছোট পানির বোতল ৭০ রুপি। বাংলাদেশি মূল্যমানে ধরেন ২৫-৩০ টাকা। সেই পানির বোতল ঠাণ্ডা চাইলাম বলে, বাড়তি ২০ রুপি দাবি করে বসল দোকানী!

আমরা অবশ্য বাড়তি বিশ রুপি দেইনি। কিভাবে বাড়তি টাকা না দিয়েও ঠাণ্ডা পানি পেলাম, সেই কৌশলটা এখানে বলা যাচ্ছে না। দোকানে বসা ভদ্রলোক দেখতে অনেকটা তামিল সিনেমার ভিলেনদের মত ছিলেন। বের হয়ে আসার সময় বললেন, ‘তোমরা ভাগ্যবান। নর্মাল পানির দামে ঠাণ্ডা পানি পেয়ে যাচ্ছো।’

হ্যাঁ, ভাগ্যবান তো বটেই। তা না হলে, অটোচালকদের বিরাট বিরাট সব স্ক্যামের হাত থেকে পাশ কাটিয়ে কি আর বের হয়ে আসা যায়। ট্যুরিস্ট বুঝলেই অটো চালকরা নানা রকম অফার দেওয়া শুরু করে। নানা রকম জায়গায় নিয়ে যাবে, জুয়েল শপে নিয়ে যাবে।

শ্রীলঙ্কা ঐতিহাসিক ভাবেই রত্নের ভাণ্ডার। সেই ইমেজকে পুঁজি করে এখানে ব্যাঙের ছাতার মত যত্রতত্র গড়ে উঠেছে জুয়েল শপ। আর এই সব দোকান থেকে কমিশন পান অটো চালকরা। দোকানগুলোতে ট্যুরিস্ট ঢোকাতে পারলেই মিলে টাকা। কলম্বোতে এখনও জুয়েল শপে না ঢুকেও দিব্যি কেটে যাচ্ছে জীবন। এটাও সম্ভবত একটা রেকর্ড!

লেখক পরিচিতি

সম্পাদক

Share via
Copy link