গিলের শতকে সংশয়ের সমাপ্তি

শুভমন গিলের কাঁধে একটা অদৃশ্য চাপ ছিল, একে তো ভারতীয় দলের নতুন অধিনায়ক, তার উপর ব্যাটিংয়ে চার নম্বর রোলের গুরুত্বপূর্ণ পজিশন। তবে গিল যেন থোড়াই কেয়ার। ব্যাট হাতে দুর্দান্ত এক শতক করে বুঝিয়ে দিলেন, দায়িত্বটা ভুল মানুষের হাতে পড়েনি।

শুভমন গিলের কাঁধে একটা অদৃশ্য চাপ ছিল, একে তো ভারতীয় দলের নতুন অধিনায়ক, তার উপর ব্যাটিংয়ে চার নম্বর রোলের গুরুত্বপূর্ণ পজিশন। তবে গিল যেন থোড়াই কেয়ার। ব্যাট হাতে দুর্দান্ত এক শতক করে বুঝিয়ে দিলেন, দায়িত্বটা ভুল মানুষের হাতে পড়েনি।

অধিনায়ক হিসেবে নিজের প্রথম ইনিংস। দায়িত্ব বদলেছে, তবে গিলের ব্যাটে সেই পুরোনো ধার। ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা করলেন দারুণভাবে। দুই উইকেট পড়ার পর ৯২ রানে যখন ক্রিজে নামলেন গিল, তখন দৃঢ় আত্মবিশ্বাসে ভরপুর ছিলেন ‘ইন্ডিয়ান প্রিন্স’।

পরপর দুই উইকেট হারিয়ে কিছুটা ব্যাকফুটে তখন ইন্ডিয়া। সমীকরণটা তখন সতর্ক এক ইনিংস খেলতে হবে, কোনো ভুল করলে চলবে না। তবে গিলের ব্যাট কথা বললো অন্য সুরে। শুরু করলেন কাউন্টার অ্যাটাক, টেস্ট নয় যেন হেডিংলিতে ওয়ানডে খেলতে নেমেছেন।

বোলাররা যখনই একটু ঢিলেমি করেছেন, গিল বলগুলোকে সীমানা দড়ি দেখিয়েছেন। সলিড টেকনিক, আগ্রাসী, সেই সাথে আত্মবিশ্বাসী—একেবারে পিওর ক্লাস।
মাঠের চারপাশেই বাউন্ডারিও হাঁকিয়েছেন। ইংল্যান্ডের অভিজ্ঞ পেসার ক্রিস ওকসকে তো এক ওভারেই তিনটি চার মেরে বুঝিয়ে দিয়েছেন, কেন তিনি ভারতীয় ব্যাটিংয়ের ভবিষ্যৎ কাণ্ডারি।

ইনিংসের ৪৩তম ওভারে জশ টাংয়ের বলে দারুণ এক বাউন্ডারি হাঁকিয়ে নিজের হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন শুভমন গিল। মাত্র ৫৬ বলে এই ফিফটি—যা তার টেস্ট ক্যারিয়ারের দ্রুততম অর্ধশতক।

এর আগে ২০২৪ সালে বিশাখাপত্তনমে ৬০ বলে এবং ধর্মশালায় ৬৪ বলে হাফ-সেঞ্চুরি করেছিলেন। সেবারও প্রতিপক্ষ ছিল এই ইংল্যান্ড। ইংলিশদের পেলেই যেন বদলে যায় গিলের ব্যাটের ধরন।

তবে অর্ধশতকে তাঁর তেষ্টা মেটেনি, স্মরণীয় করে রাখতে চাইলেন অধিনায়ক হিসেবে নিজের প্রথম ইনিংসটি। তাই তো ১৪০ বলে তুলে নিলেন মনে রাখার মতো এক সেঞ্চুরি।

রোহিত শর্মার পর অধিনায়কত্ব কে সামলাবেন? বিরাট কোহলির চার নম্বরে যোগ্য রিপ্লেসমেন্ট কে হবেন? সব উত্তর যেন বলে দিল এই শতকটি। সব সংশয় দূর করে একটা কথায় মনে করিয়ে দিল—যোগ্য লোকের হাতেই যে উঠেছে টিম ইন্ডিয়ার দায়িত্বভার।

লেখক পরিচিতি

স্টাফ রিপোর্টার

Share via
Copy link