একেবারে একটা ৩৬০ ডিগ্রি টার্নআরাউন্ড। চলতি বছরের প্রথম টি-টোয়েন্টি সিরিজে আরব আমিরাতের কাছে পরাস্ত হয়েছিল বাংলাদেশ। গেল গেল রব উঠে গেল চারিদিকে। আরও একবার সেই স্লোগানের পটভূমি যেন তৈরি হয়ে গেল। টানা তিন সিরিজ জয়ে সৃষ্টি হওয়া আত্মবিশ্বাস মুহূর্তেই পরিণত হতে পারে তাসের ঘরে। কেন? কিভাবে?
বাংলাদেশ দল এক অভিনব পন্থা বেছে নিয়েছে শিশিরের সাথে লড়াই করবার জন্যে। পানিতে বল ভিজিয়ে নেটে অনুশীলন করেছে। এই শিশিরের ভয়বহতা তো বেশ ভালভাবেই জানে বাংলাদেশ দল। আরব আমিরাতের বিপক্ষে যেই সিরিজটা হেরেছিল টাইগাররা, সেই সিরিজেই টের পেয়েছিল শিশিরের প্রভাব কতটা দুর্বিষহ করে তোলে একজন বোলারের দিন।
সেই সিরিজের প্রথম ম্যাচে শেখ মেহেদী হজম করেন চার ওভারে ৫৫ রান। হাসান মাহমুদ বিলিয়েছিলেন ৩৩ আর তানভীর ইসলামের খরচা ৩০ রান। ম্যাচটা প্রায় হেরেই যেতে বসেছিল বাংলাদেশ দল। কিন্তু এক মুস্তাফিজুর রহমান ত্রাণকর্তা হয়ে হাজির হয়েছিলেন। ১৫ ও ১৭ তম ওভারে তার মাত্র সাত রানের ওভারগুলোতেই মূলত ম্যাচটা জিততে পেরেছিল বাংলাদেশ।

কিন্তু পরবর্তী দুই ম্যাচে ঘটেছে অঘটন। মুস্তাফিজ ছিলেন না আর রক্ষা করার জন্যে। দ্বিতীয় ম্যাচে ২০৬ রানের টার্গেট দিয়েও হেরেছিল লিটন দাসের দল। সেই ম্যাচে নাহিদ রানা ৫০ ও তানজিম হাসান সাকিব ৫৫ রান হজম করেন। এছাড়াও তানভীর ৩৭ ও শরিফুল ইসলাম ৩৪ রান বিলিয়েছিলেন।
তৃতীয় ম্যাচে তানজিম সাকিব ৪০, মেহেদী হাসান ৩৬, হাসান মাহমুদ ৩৩ ও রিশাদ হোসেনের খরচ ৩২ রান। বোলারদের এই দেদারছে রান খরচের পেছনের কারণ শিশির। ম্যাচ পরিস্থিতিতে সেই শিশির সামলানোর একটা ড্রেস রিহার্সেল হতে পারত নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ঘরের মাঠের টি-টোয়েন্টি সিরিজ।
বেশ অস্বাভাবিকভাবে সিলেটেও সন্ধ্যার পর শিশিরের প্রভাব ছিল স্পষ্ট। তাছাড়া অতিরিক্ত গরমে ঘামও ঝড়েছে বেশ। এমন কন্ডিশনে বাংলাদেশের বোলাররা নিজেদের সামলাতে পারেন কি-না, তা নিরীক্ষা করে দেখা সম্ভব হল না। এশিয়া কাপের মঞ্চে বাংলাদেশ যে সব টসে জয়লাভ করে প্রথমে বোলিং নিতে পারবে- সে নিশ্চয়তা তো নেই। এমন পরিস্থিতিতে টাইগারদের সিরিজ জয়কে প্রাধান্য দেওয়া শেষ অবধি কাল হয়ে দাঁড়াতে পারে এশিয়া কাপের মত বড় মঞ্চে।












