একটা ইনজুরি, স্রেফ একটা ইনজুরি দমকা হাওয়ার মত সাজানো গোছানো সংসারকে তছনছ করে দিতে পারে। সেই ধ্বংসযজ্ঞের আরও একজন ভুক্তভুগী এবাদত হোসেন। এক আসমান সমান রোশনাই নিয়ে তার আগমন ঘটেছিল জাতীয় দলে। সেই রোশনাইকে গিলে খেয়েছে ইনজুরি নামক চন্দ্রগ্রহণ।
সংক্ষিপ্ত এক যাত্রা পথ। ২২ টেস্ট, ১২ ওয়ানডে আর চার টি-টোয়েন্টি। ৩৮ ম্যাচে তার ঝুলিতে আছে ৭২টি উইকেট। মাঝের ওভারে ব্যাটারকে চাপে ফেলা, জমাট বাঁধা জুটিতে ভাঙন ধরানোতে তিনি ছিলেন সিদ্ধহস্ত। টেস্টের পুরান বল হাতে রিভার্স সুইংয়ের মায়াবি জাদুতে তিনি ব্যাটারকে সম্মোহনে ফেলেছেন। কিন্তু একটা ইনজুরি উড়তে থাকা এবাদতকে টেনে নিচে নামাল।
তখন চারিদিকে বেশ তোড়জোড়। ২০২৩ সালের বিশ্বকাপ খেলতে বাংলাদেশ উড়াল দেবে। তার আগে স্কোয়াড নিয়ে হচ্ছে আলোচনা। এবাদত তখন একাডেমি মাঠের একটা কোণে নিজের হাঁটুর চোট সাড়াতে মশগুল। হল না তার আর বিশ্বকাপে যাওয়া। অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের কণ্ঠে ঝড়ল এবাদতের অনুপস্থিতির বেদনাতুর স্তুতি।

কিন্তু কি আর করার! সময় ও নদীর স্রোত তো কারোর জন্য অপেক্ষা করে না। সাথে করে নিয়ে যায় ছন্দ আর বিশ্বাস। এবাদতের ক্ষেত্রেও ঘটেছে তা। দীর্ঘ বিরতি কাটিয়ে তিনি মাঠের ক্রিকেটে ফিরেছিলেন বটে। ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগ, জাতীয় ক্রিকেট লিগ, বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ- সর্বত্রই খেলেছেন। কিন্তু সেই হারানো দ্যুতির অভাবটা সর্বত্র ছিল স্পষ্ট।
তবুও পুরনো চাল ভাতে বাড়ে- সেই বিশ্বাস থেকে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচে তাকে রাখা হল একাদশে। দুই ইনিংসে তার শিকার মাত্র একটি উইকেট। হতাশার সেই গল্পটা লেখা হয়েছিল ২০২৫ সালের নভেম্বরে। এরপর আর তাকে কেউ ওয়ানডে কিংবা টি-টোয়েন্টি দলে ডাকার সাহস করেনি।
আফসোস বাড়ায় এমন সব গল্প। বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের পেস ব্যাটারি নিয়ে নানানদিকে নানান প্রশংসা। যার একেবারে হামাগুড়ি অবস্থায় এবাদতের আগমন। সাদামাটা টেস্ট বোলার। কিন্তু মাউন্ট মঙ্গানুয়ের মত বৈরী কন্ডিশনে টেস্ট জেতার সাহস সঞ্চার ঘটেছিল এবাদতের হাত ধরেই। এরপর একটা বছরজুড়ে চলল এবাদতের ধুন্ধুমার বোলিং। এক ভিন্ন এবাদতের দেখা মিলল। উইকেটের ট্যালি তরতর করে বাড়তে থাকল।

কিন্তু ওই এক হাঁটুর ইনজুরি তাকে বানিয়ে দিল অকার্যকর। ২০২২-২৩ এর দিকে এবাদতের পারফরমেন্স বনে গেল এক ধুমকেতু। যা সময়ের বিস্তৃত বিচরণে কালেভদ্রে দেখা যায়। আর এবাদত ক্রমশ এক গর্ব থেকে পরিণত হন এক হতাশার ছোটগল্পে। সময় একেবারেও ফুরিয়ে যায়নি। ‘লেট ব্লুমার’ হয়ে কি আর একটিবার এবাদত ছড়াবেন সৌরভ?











