একটা শূন্যতা দীর্ঘদিন ধরেই জায়গা করে আছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলে। কোনভাবেই পূরণ করা কিংবা মুছে ফেলা যাচ্ছে না। সমস্যাটা মিডল অর্ডার নিয়ে। ভরসা করার মতো বিশ্বাস তেমন কেউই যে অর্জন করতে পারেননি। নিউজিল্যান্ড সিরিজেও কি শূন্যতা অপূরণীয় থাকবে? কেউ এসে কি সমস্যার সমাধান করবে না?
অনেককে নানাভাবে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে চেষ্টা করা হয়েছে, তবে সুফল মেলেনি। সর্বশেষ পাকিস্তান সিরিজের দলেও প্রপার মিডল অর্ডার ব্যাটারের সংখ্যাটা ছিল সীমিতই। যত দায়-দায়িত্ব যেন তাওহীদ হৃদয়ের একার। লিটন দাস, আফিফ হোসেনরা চেষ্টা করেছেন তবে সফলতা মেলেনি। তাই তো নিউজিল্যান্ড সিরিজে বিকল্পের খোঁজে বাংলাদেশ।
তিনজনকে নিয়ে চর্চা চলছে। নুরুল হাসান সোহান আর মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত নিজেদের অস্তিত্বের প্রমাণ দিতে বদ্ধপরিকর। দুজনেই এক উইকেটে দাঁড়িয়ে অনুশীলন পর্ব সেরেছেন। ভাগাভাগি করে বল ফেস করেছেন। তবে সুযোগের কথা বললে, প্রশ্ন আসবে কার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। একজনকে বেছে নিতে হলে দ্বিধা ছাড়াই আসবে মোসাদ্দেকের নাম।

সোহান কেন নয়? এমন প্রশ্ন আসা খুবই স্বাভাবিক। তবে পরিসংখ্যানের হিসাব ছাপিয়ে এক কথায় বলা যায়, অনেক সুযোগই তো পেয়েছেন, সবটা যে হেলায় হারিয়েছেন তিনি অথবা ভাগ্য সহায় হয়নি জাতীয় দলে টিকে থাকার জন্য।
মোসাদ্দেকও যে সেই দলে পড়েন না এমনটা না। তবে সুযোগের দরজা সদয় হয়ে কমই খুলেছে তাঁর জন্য। পারফরম্যান্সের কথা হিসাব টানলেও গত কিছু বছর ধরে ব্যাটে-বলে তিনি দারুণ এক প্যাকেজ হয়ে উঠেছেন।
বাকি একজন কে? তাঁকে অবশ্য বাইরে থেকে টানার প্রয়োজন নেই। তিনি মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন। সদ্য সমাপ্ত পাকিস্তান সিরিজে দলের সাথেই ছিলেন। মূলত দীর্ঘমেয়াদে যে সমাধান খোঁজা হচ্ছে, তিনি সেটারই অংশ। তবে ভরসা হওয়ার কোনো গল্পই তাঁর লেখা হয়ে ওঠেনি এখনও।
দলের সাথে শেষ সিরিজে আফিফও ছিলেন। তবে নজর কাড়ার মতো তেমন কিছুই করতে পারেননি। যদিও তিন ম্যাচের দুটিতে ব্যাট করার সুযোগ হয়েছে যেখানে সর্বমোট রান ১৯।

আপাতত এই চারজনকে নিয়ে সমাধানের উপায় খোঁজা যায়। দলের সাথে লিটন দাসও আছেন, তবে মিডল অর্ডারে এখনও পরীক্ষা পর্বই চলছে তাঁর। মোট কথা বাংলাদেশের হাতে বিকল্প খুব কমই আছে। ঘুরে ফিরে, নির্দিষ্ট কিছু খেলোয়াড়েরই নাম আসবে। তবে নিউজিল্যান্ড সিরিজের জন্য জায়গা ফাঁকা আছে একটা, সেখানে মোসাদ্দেকের নামটাই বোধহয় বেশি এগিয়ে।











