বাংলাদেশ ক্রিকেটে আবারও বড় ধাক্কা। হঠাৎ করেই ভেঙে দেওয়া হলো বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)-এর বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ। আর সেই জায়গায় বসানো হয়েছে নতুন অ্যাডহক কমিটি—যার নেতৃত্বে উঠে এসেছেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল।
মঙ্গলবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে নাটকীয় এই সিদ্ধান্তের কথা জানান জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)-এর ক্রীড়া পরিচালক আমিনুল এহসান। তার আগে অবশ্য জমা পড়েছে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন—যেখানে বিসিবি নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন। সেই রিপোর্ট প্রকাশের কয়েক দিনের মধ্যেই এলো এই বড় পদক্ষেপ।
ঘটনার আগেই পরিস্থিতি ছিল টালমাটাল। ২৫ পরিচালকের মধ্যে ইতোমধ্যে সাতজন পদত্যাগ করেছেন। ভেতরে ভেতরে যে অস্থিরতা জমছিল, তা যেন শেষমেশ বিস্ফোরণ ঘটাল পুরো বোর্ড ভেঙে দেওয়ার মধ্য দিয়ে। চলে যেতে হল প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিয়ান আমিনুল ইসলাম বুলবুলকে।

নতুন করে গঠিত হয়েছে ১১ সদস্যের একটি অ্যাডহক কমিটি, যার মেয়াদ তিন মাস। নেতৃত্বে তামিম—যিনি দীর্ঘদিন মাঠে নেতৃত্ব দিয়েছেন, এবার নামলেন প্রশাসনের কঠিন খেলায়। তাঁর সঙ্গে এই কমিটিতে জায়গা পেয়েছেন রাশনা ইমাম, মির্জা ইয়াসির আব্বাস, সৈয়দ ইব্রাহিম আহমেদ, ইসরাফিল হোসেন, মিনহাজুল আবেদীন, আতাহার আলী খান, তানজিল চৌধুরী, সালমান ইস্পাহানি, রফিকুল ইসলাম এবং ফাহিম সিনহা।
সংবাদ সম্মেলনে আমিনুল এহসান জানান, বিসিবি ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যেই ইমেইলের মাধ্যমে জানানো হয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)-কে। শুধু তাই নয়, নতুন কমিটির নামগুলোর অনুমোদনের জন্যও পাঠানো হয়েছে সেখানে।
বাংলাদেশ ক্রিকেট এখন এক অদ্ভুত সন্ধিক্ষণে। মাঠের লড়াইয়ের বাইরে বোর্ডরুমের এই টানাপোড়েন কতটা প্রভাব ফেলবে দলের ভবিষ্যতে—সেই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে সবার মনে। তবে একথা নিশ্চিত, তামিম ইকবালের সামনে অপেক্ষা করছে তাঁর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কঠিন ইনিংস।

অন্যদিকে এখন আইসিসির কোর্টে, সরকারী হস্তক্ষেপ দেখিয়ে আইসিসি কি এখন বাংলাদেশকে ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করবে? নাকি সহনশীল আচরণ করবে? উত্তরের জন্য সময়ের অপেক্ষা করতেই হচ্ছে।










