শশাঙ্কের তালু থেকে জয় ফসকাচ্ছে পাঞ্জাবের

হায়দ্রাবাদের মাঠে যখন হেইনরিখ ক্লাসেনের ক্যাচটি শশাঙ্ক সিংয়ের হাতের ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে গেল, তখনই কার্যত নির্ধারিত হয়ে গিয়েছিল ম্যাচের ভাগ্য।

ক্রিকেট মাঠে ফিল্ডারদের বলা হয় বোলারদের রক্ষাকবচ। কিন্তু পাঞ্জাব কিংসের ক্ষেত্রে সেই বর্মই এখন সবচেয়ে বড় ক্ষত হয়ে দাঁড়িয়েছে। হায়দ্রাবাদের মাঠে যখন হেইনরিখ ক্লাসেনের ক্যাচটি শশাঙ্ক সিংয়ের হাতের ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে গেল, তখনই কার্যত নির্ধারিত হয়ে গিয়েছিল ম্যাচের ভাগ্য।

তিন ম্যাচে পাঁচটি ক্যাচ হাতছাড়া করার দায়ে এখন সমালোচনায় বিদ্ধ হচ্ছে এই ভারতীয় ব্যাটার। যুজবেন্দ্র চাহালের বলে ক্লাসেন যখন মাত্র নয় রানে ব্যাট করছিলেন, তখন তাকে জীবনদান করেন শশাঙ্ক।

সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ক্লাসেনের ৪৩ বলে ৬৯ রানের টর্নেডো ইনিংসই সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদকে ২৩৫ রানের পাহাড়ে পৌঁছে দেয়। দিনশেষে ৩৩ রানের হারটি যেন শশাঙ্কের সেই একটি পিচ্ছিল হাতেরই করুণ পরিণতি।

হ্যামস্ট্রিং চোট থেকে ফিরে শশাঙ্ক সিং ফিল্ডিংয়ে যেন এক মূর্ত বিভীষিকা। লখনৌর বিপক্ষে তিনটি এবং দিল্লির বিপক্ষে একটি।  টানা ক্যাচ ফেলার এই মিছিলে অধৈর্য হয়ে পড়েছেন কোচ রিকি পন্টিংও। ম্যাচে হারের পর অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার সোজাসুজি জানিয়ে দিলেন, ব্যাটিং বা বোলিং নয়, তাদের ডুবিয়েছে যাচ্ছেতাই ফিল্ডিং।

​পাঞ্জাবের ফিল্ডিং বিপর্যয়ের দিনে কেবল শশাঙ্ক নন, ক্যাচ মিসের মিছিলে নাম লিখিয়েছিলেন কুপার কনোলি এবং লকি ফার্গুসনও। এই সুযোগগুলোরই পূর্ণ সদ্ব্যবহার করেছে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ।

টানা তিন হারের পর দশ ম্যাচে ছয় জয় নিয়ে পাঞ্জাব এখন পয়েন্ট টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে। অন্যদিকে ১১ ম্যাচে সাত জয় নিয়ে সবার উপরে রাজত্ব করছে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ। টুর্নামেন্টের এই শেষ লগ্নে এসে পাঞ্জাব যদি তাদের ‘ফিল্ডিং ট্র্যাজেডি’ সামাল দিতে না পারে, তবে দারুণ শুরুর পরেও শিরোপার স্বপ্ন তাদের জন্য নিছক স্বপ্নই থেকে যাবে।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

সাব এডিটর

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

Share via
Copy link