হোম অ্যাডভান্টেজের অপমৃত্যু

বিসিসিআই এর কঠোর তদারকিতে আইপিএল থেকে হারিয়ে গেছে ‘হোম অ্যাডভান্টেজ’ বা ঘরের মাঠের চিরাচরিত সুবিধা।

আইপিএলে ২২০ রানের পাহাড় যেন এখন মামুলি ব্যাপার। মাঠের সীমানা ছাড়িয়ে রানের এই উৎসব যখন দর্শকদের বিনোদিত করছে, ঠিক তখনই ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর অন্দরে বাড়ছে চাপা উদ্বেগ। অভিযোগ উঠেছে, বিসিসিআই এর কঠোর তদারকিতে আইপিএল থেকে হারিয়ে গেছে ‘হোম অ্যাডভান্টেজ’ বা ঘরের মাঠের চিরাচরিত সুবিধা।

পিচ প্রস্তুতিতে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর হস্তক্ষেপ রুখতে এবার কোমর বেঁধে নেমেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। প্রতিটি ভেন্যুতে বোর্ডের কিউরেটররা এখন মূল নিয়ন্ত্রক। দিল্লির কোচ হেমাঙ্গ বাদানি আক্ষেপ করে বলেন, ‘পিচ কেমন হবে তার ওপর আমাদের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। ঘরের মাঠে খেলেও আমাদের অজানা পিচে লড়াই করতে হচ্ছে।’ এবারের মৌসুমে দিল্লি তাদের নিজেদের মাঠে পাঁচ ম্যাচের চারটিতেই হেরেছে।

বিসিসিআই-এর এবারের সুপারিশে বোলারদের জন্য সাহায্য রাখা হয়েছে নামমাত্র। পেসারদের জন্য সুইং কিংবা স্পিনারদের জন্য টার্ন – সবই যেন নিয়ন্ত্রিত। বাউন্ডারি রাখা হচ্ছে ৭৭ মিটারের মধ্যে। আর পিচে ঘাসের অভিন্ন আবরণ রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে যাতে পিচ কোনোভাবেই মন্থর বা শুষ্ক হতে না পারে।

​এর ফলে তৈরি হচ্ছে এক অদ্ভুত অসমতা। যে দলের শক্তির জায়গা স্পিন, তারা চাইছে মন্থর পিচ। আবার যাদের তুরুপের তাস পেস বোলিং, তারা চাইছে ঘাসযুক্ত বাউন্সি উইকেট। কিন্তু বাস্তবে সব মাঠের চরিত্রই এখন প্রায় একই রকম – ফ্ল্যাট এবং ব্যাটিং সহায়ক।

টুর্নামেন্ট এখন চূড়ান্ত লগ্নে। ভারতের তীব্র গ্রীষ্মে পিচগুলোও এখন কিছুটা ক্লান্ত। বিশেষজ্ঞ মহলের ধারণা, টুর্নামেন্টের শেষের দিকে রানের বন্যা কিছুটা কমে আসবে।

তবে দিনশেষে বড় স্কোরের মোহ আর নিখাদ বিনোদনের চাপে ক্রিকেটের চিরচেনা ট্যাকটিক্যাল লড়াইটা এখন যেন গৌণ। ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর ক্ষোভ আর বোর্ডের অনড় অবস্থানের এই সংঘাত আইপিএলকে এক নতুন বাস্তবতার সামনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

জীবন তড়িৎ কোষে অ্যানোডে ক্রীড়ার উন্মাদনা আর ক্যাথোডে সাহিত্যের স্নিগ্ধ নির্যাস।

Share via
Copy link