মিউনিখের আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় তখন পিনপতন নীরবতা। বায়ার্ন দুর্গের পতন ঘটিয়ে শেষ হাসিটা হাসল প্যারিস সেন্ট জার্মেই। উত্তেজনায় ঠাসা লড়াইয়ে বায়ার্নকে ছিটকে দিল লুইস এনরিকের শিষ্যরা। ১-১ গোলে ড্র করেও এগ্রিগেটে ৬-৫ ব্যবধানে এগিয়ে এখন ফাইনালে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।
ম্যাচ শুরুর বাঁশি বাজার তখন মাত্র তিন মিনিট। পাল্টা আক্রমণে বায়ার্নকে স্তব্ধ করে দেয় পিএসজি। ফাবিয়ান রুইজের পাস থেকে বল পান কভারেটস্খেলিয়া। তার বুদ্ধিদীপ্ত পাস খুঁজে নেয় ওসমান ডেম্বেলেকে। ঠাণ্ডা মাথায় বল জালে জড়ান ব্যালন ডি’অর জয়ী এই তারকা। এই এক গোলেই ফাইনালের সুবাস পেতে শুরু করে পিএসজি।
গোল হজম করে মরিয়া হয়ে ওঠে বায়ার্ন মিউনিখ। একের পর এক আক্রমণ চালিয়েও পিএসজির রক্ষণ ভাঙা যাচ্ছিল না। প্রথমার্ধে রেফারির কিছু সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয় স্বাগতিকরা। ডিবক্সে হ্যান্ডবলের জোরালো আবেদন থাকলেও সাড়া দেননি রেফারি। গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যার বেশ কিছু দুর্দান্ত সেভ করে বায়ার্নকে ম্যাচে টিকিয়ে রেখেছিলেন। কিন্তু স্ট্রাইকারদের ব্যর্থতায় জয় অধরাই থেকে যায়।

ম্যাচের শেষ দিকে নাটকীয়তা ছড়ান হ্যারি কেন। এক্সট্রা টাইমে গোল করে বায়ার্নকে সমতায় ফেরান তিনি। এটি ছিল চ্যাম্পিয়ন্স লিগে কেনের টানা সপ্তম গোল। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। রেফারি শেষ বাঁশি বাজাতেই উল্লাসে ফেটে পড়ে প্যারিসের শিবির।
ইউরোপীয় ফুটবলে পিএসজি এখন এক অপ্রতিরোধ্য শক্তির নাম। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর গত বছর যে মুকুট তারা জিতেছিল, তা ধরে রাখতে মরিয়া লুইস এনরিকের দল। অন্যদিকে, বায়ার্নের জন্য এই হার বড় এক ধাক্কা। ২০২০ সালে পিএসজিকে হারিয়েই চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বায়ার্ন। কিন্তু সময় বদলেছে। মিউনিখের মাঠে স্বাগতিকদের ক্লান্ত দেখিয়েছে, আর পিএসজি খেলেছে কৌশলী ফুটবল।
গত বছর এই মাঠেই ইন্টার মিলানকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল পিএসজি। এবারও তারা ফেভারিট। আগামী ৩০ মে বুদাপেস্টের ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ আর্সেনাল। ১৯৯০ সালের পর রিয়াল মাদ্রিদ ছাড়া আর কোনো দল টানা দুবার চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি। এবার সেই রেকর্ডেই ভাগ বসাতে চায় ফরাসি জায়ান্টরা।












