নেহরার পরিকল্পনায় সুরিয়াভানশিকে পরাস্ত

ডাগআউট থেকে অভিজ্ঞ কোচ আশিষ নেহরা ইশারায় সিরাজকে কিছু একটা বার্তা দিচ্ছিলেন। নেহরার সেই কৌশলী সংকেত আর অধিনায়ক শুভমান গিলের সাথে সংক্ষিপ্ত পরামর্শের পরই বদলে যায় সিরাজের আক্রমণ।

২২ গজে তখন কেবলই এক কিশোরের রাজত্ব। বোলার কে? তার নাম বা অভিজ্ঞতা কী? সেসবের তোয়াক্কা না করেই ব্যাট হাতে শাসন চালাচ্ছিলেন রাজস্থান রয়্যালসের বিস্ময় বালক বৈভব সুরিয়াভানশি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আশিষ নেহরার পরিকল্পনায় মোহাম্মদ সিরাজের গতির কাছে হার মানতে হলো তাকে।

গুজরাট টাইটান্সের রান পাহাড় তাড়া করতে নেমে শুরুতেই সিরাজকে নিশানা করেন সুরিয়াভানশি। নিজের প্রথম ওভারেই লং-অনের ওপর দিয়ে এক গগনচুম্বী ছক্কায় সিরাজকে স্বাগত জানান এই কিশোর।

মাঝে একবার চোট পেলেও দমে যাননি তিনি। ইনিংসের তৃতীয় ওভারে সিরাজ যখন আবারও বল হাতে এলেন, সুরিয়াভানশি প্রথম চার বলের মধ্যে তিনটি বাউন্ডারি হাঁকিয়ে সিরাজকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তোলেন।

ঠিক সেই মুহূর্তেই ব্রডকাস্ট ক্যামেরায় ধরা পড়ে এক নাটকীয় দৃশ্য। ডাগআউট থেকে অভিজ্ঞ কোচ আশিষ নেহরা ইশারায় সিরাজকে কিছু একটা বার্তা দিচ্ছিলেন। নেহরার সেই কৌশলী সংকেত আর অধিনায়ক শুভমান গিলের সাথে সংক্ষিপ্ত পরামর্শের পরই বদলে যায় সিরাজের আক্রমণ।

নেহরার দেখানো পথে সিরাজ নিজের গেম অ্যাওয়ারনেস বা ম্যাচ পরিস্থিতি বোঝার ক্ষমতাকে কাজে লাগালেন। ওভারের পরের বলটি ছিল ঘন্টায় ১৪৬.৬ কিলোমিটার বেগের এক তীক্ষ্ণ এবং স্কিডি বাউন্সার।

বৈভব তাতে পুল শট খেলার চেষ্টা করলেও সিরাজের অতিরিক্ত গতির কাছে পরাস্ত হন। ব্যাটের ওপরের কানায় লেগে বল আকাশে উঠলে আরশাদ খান অবিশ্বাস্য ক্ষিপ্রতায় তা তালুবন্দি করেন। উইকেট নেওয়ার পর সিরাজের সেই আক্রমণাত্মক উল্লাসই ছিল এই শিকারের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

জীবন তড়িৎ কোষে অ্যানোডে ক্রীড়ার উন্মাদনা আর ক্যাথোডে সাহিত্যের স্নিগ্ধ নির্যাস।

Share via
Copy link