সময় যায়, দিন বদলায়। ক্রিকেটের ব্যাকরণ আর ধরণও পাল্টে যায়। কিন্তু বাংলাদেশের ক্রিকেট মানচিত্রে একটি ধ্রুবতারার মতো জ্বলে থাকেন তিনি – মুশফিকুর রহিম। যাকে আমরা পরম মমতায় ডাকি ‘মিস্টার ডিপেন্ডেবল’। কেবল রেকর্ড নয়, মুশফিকের ক্যারিয়ার যেন এক দীর্ঘস্থায়ী ত্যাগের মহাকাব্য। যেখানে প্রতিটি রান আর প্রতিটি দিন মিলে তৈরি হয়েছে এক অনন্য ইতিহাস।
শচীন টেন্ডুলকার যখন ক্রিকেটে ২৪ বছরের রাজত্ব শেষ করেছিলেন, তখন ক্রিকেট বিশ্ব ভেবেছিল এমন দীর্ঘ পথচলা হয়তো আর দেখা যাবে না। কিন্তু এশিয়ার ক্রিকেটে সেই অসাধ্য সাধনের পথে সবচেয়ে কাছাকাছি পৌঁছেছন মুশফিকই।
২০ বছর ৩৫২ দিন ধরে সাদা পোশাকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন মুশি। ইমরান খান কিংবা ওয়াসিম আকরামের মতো দানবীয় প্রতিভারাও ক্যারিয়ারের দৈর্ঘ্যে মুশফিকের নিষ্ঠার কাছে হার মেনেছেন।

উইকেটকিপার ব্যাটার হিসেবে আন্তর্জাতিক আঙিনায় মুশফিকের অবস্থান সুদৃঢ়। কুমার সাঙ্গাকারা বা এমএস ধোনির মতো মহারথীদের সঙ্গে একই তালিকায় উচ্চারিত হয় তাঁর নাম।
প্রায় ৪০০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে প্রায় ১২ হাজার রান। উইকেটের পেছনের অতন্দ্র প্রহরী হয়েও ব্যাট হাতে তাঁর এই ক্লান্তিহীন লড়াই তাঁকে ক্রিকেটের এলিট ক্লাবে স্থান করে দিয়েছে। সংগ্রহে রয়েছে তাঁর ১৩টি সেঞ্চুরি আর ৬৮টি হাফ সেঞ্চুরি!
মুশফিকের ক্যারিয়ারে একটি অদ্ভুত অথচ গৌরবময় রেকর্ড উজ্জ্বল হয়ে আছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যারা কখনোই বল হাতে হাত ঘোরাননি, সেই বিশুদ্ধ ব্যাটারদের মধ্যে রানের পাহাড়ে মুশফিক এখন বিশ্বের এক নম্বর। অ্যাডাম গিলক্রিস্ট কিংবা জস বাটলারের মতো বিধ্বংসী ব্যাটারদের ছাড়িয়ে তাঁর ১৫,৮৫৫ রান প্রমাণ করে, তিনি নিখাদ এক শিল্পীর মতো কেবল নিজের ব্যাটিং সত্তাকেই লালন করেছেন।

মুশফিকুর রহিম মানেই ক্রিজে পাথরের মতো টিকে থাকা। মুশফিক মানেই সুইপ শটে গ্যালারি মাতানো আর মুশফিক মানেই দলের বিপদে বুক চিতিয়ে লড়াই করা। পরিসংখ্যানের খেরোখাতায় তিনি হয়তো কেবল কিছু সংখ্যা, কিন্তু বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের পাতায় তিনি এক অবিনশ্বর অধ্যায়।











