মিরপুরে বাঁহাতি ব্যাটারদের আতঙ্কের নাম মেহেদী হাসান মিরাজ। ফাইফার তুলে পাকিস্তানের ব্যাটিং অর্ডার একাই ধসিয়ে দিয়ে প্রমাণ করলেন সেই কথার। ঘূর্ণি জাদুতে পাকিস্তানের স্কোরবোর্ডের দখল নিলেন একাই।
পিচের প্রতিটি ফাটল যেন তার চেনা। বল হাত থেকে ছাড়ার পর কোনটা টার্ন করবে, কোনটা সোজা যাবে, সেই ধাঁধা যেন তিনি নিজেই তৈরি করেন। মিরপুরের মাটিতে আবারও নিজের সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করলেন বাংলাদেশের এই অফস্পিনার। পাকিস্তানের বিপক্ষে তুলে নিলেন টেস্ট ক্যারিয়ারের ১৪তম ফাইফার, যার মধ্যে মিরপুরেই এটি তার সপ্তম!
স্কোরকার্ডটাই এখানে পুরো গল্পটা বলে দেয়। ৩৮ ওভার বল করেছেন, খরচ করেছেন মাত্র ১০২ রান। উইকেট নিয়েছেন পাঁচটি। এই সংখ্যাগুলোই বুঝিয়ে দেয় কতটা নিখুঁত, কতটা নিয়ন্ত্রিত আর কতটা কার্যকর ছিলেন মিরাজ। একপ্রান্ত ধরে রেখে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপকে ধীরে ধীরে ভেঙে চুরমার করেছেন তিনি।

সকালেও বাংলাদেশের কপালে ছিল চিন্তার রেখা। দ্বিতীয় দিন শেষে ১৭৯ রানে এক উইকেট হারানো পাকিস্তান শুরু করেছিল চালকের আসনে থেকেই। আর ওই এক উইকেটের মালিকও ছিলেন মিরাজ। তবে নতুন দিনের সবটা আলো মিরাজ নিজের দখলে নিলেন।
একে একে শিকার বানিয়েছেন সেট ব্যাটার আবদুল্লাহ ফজলকে। থামিয়েছেন সৌদ শাকিলকে। নিচের দিকে গিয়ে নোমান আলি আর শাহিন শাহ আফ্রিদিকেও মিরাজের স্পিন জালে বন্দি করেছেন। আর পাকিস্তানও গুটিয়ে গেছে ৩৮৬ রানে।
মিরপুরে মিরাজের সাফল্য নিয়ে মাঝেমধ্যে তির্যক মন্তব্যও শোনা যায়। কেউ কেউ বলেন, ‘মিরপুর বলেই মিরাজ এত সফল।’ কিন্তু এই ফাইফারকে শুধুই কন্ডিশনের গল্প বলে উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। কারণ পাকিস্তানের বিপক্ষে তার আধিপত্য নতুন কিছু নয়। ২০২৪ সালের রাওয়ালপিন্ডি সিরিজেই তিনি দেখিয়েছিলেন, কেবল স্পিন-সহায়ক উইকেট নয়, বিদেশের কন্ডিশনেও তিনি ম্যাচ ঘোরানোর ক্ষমতা রাখেন।

তবে মিরপুরে মিরাজ যেন অন্য এক চরিত্র। এখানের উইকেট, আবহাওয়া সবকিছুই তিনি পড়তে পারেন বইয়ের পাতার মতো। তাই পাকিস্তানের বাঁহাতি ব্যাটার-ভর্তি লাইনআপের সামনে যখন বাংলাদেশ অধিনায়কের প্রয়োজন হয়েছে একজন নির্ভরযোগ্য অস্ত্রের, তখন সমাধান ছিল একটাই, ‘মিরাজকে ডাকো’।
Share via:










