কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে চোট নিয়েই খেলছেন স্পিনার বরুণ চক্রবর্তী, আর তাতেই কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে বোর্ড অব কন্ট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়ার (বিসিসিআই)। একদিকে কেকেআরের নকআউট স্বপ্ন, অন্যদিকে ভারতীয় দলের পরিকল্পনা, এই দুইয়ের যাঁতাকলে পিষ্ট হচ্ছেন এই ডানহাতি স্পিনার।
ইডেন গার্ডেন্সে গুজরাট টাইটান্সকে ২৯ রানে হারিয়ে কলকাতা যখন শেষ চারের আশা বাঁচিয়ে রাখলো, ঠিক তখনই যেন বিতর্কের আগুনে ঘি পড়লো। প্রশ্ন উঠেছে, বাঁ পায়ের আঙুলে ‘হেয়ারলাইন ফ্র্যাকচার’ থাকা সত্ত্বেও কেন বরুণকে দিয়ে পুরো চার ওভার বল করানো হলো? বিসিসিআইয়ের চোখে এটি কেবল ঝুঁকি নয়, বরং একজন কেন্দ্রীয় চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটারের ক্যারিয়ার নিয়ে ছেলেখেলা।
দিল্লি ক্যাপিটালসের বিপক্ষে ফিল্ডিং করার সময় বরুণ চোট পেয়ে মাঠ ছেড়েছিলেন। খেলতে পারেননি রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুর বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটিও। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এর আগেও বাম হাতের ইনজুরি নিয়ে তিনি কেকেআরের জার্সি গায়ে মাঠে নেমেছেন। ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রতি এই দায়বদ্ধতা যেমন প্রশংসনীয়, বিসিসিআইয়ের কাছে তা তেমনই উদ্বেগের।

এ বছরের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের জয়ে বড় ভূমিকা ছিল বরুণের। সামনেই আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ড সফর। বিসিসিআই কর্মকর্তাদের মতে, একজন চুক্তিবদ্ধ খেলোয়াড়ের ফিটনেস সবার আগে অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত। কেকেআর এবং ভারতীয় দলের ফিজিওদের মধ্যে যোগাযোগ থাকলেও কেন এই ঝুঁকি নেওয়া হলো, তা নিয়ে এখন বড় প্রশ্ন উঠছে।
২০২০ সালে মাত্র চার কোটি টাকায় কেনা এই বোলার কেকেআরের প্রধান অস্ত্র। ১০০ এর বেশি উইকেট আর ৮-এর নিচে ইকোনমি রেটের বরুণ ছাড়া কেকেআরের বোলিং আক্রমণ যেন মেরুদণ্ডহীন। চলতি মৌসুমেও ৯ ম্যাচে ১০ উইকেট নিয়ে নিজের প্রতিভার সাক্ষর রেখে যাচ্ছেন।
আসছে আগস্টেই ৩৫ বছরে পা দেবেন বরুণ। ক্যারিয়ারের এই পড়ন্ত বিকেলে কি অতিরিক্ত ধকল তাঁর ছন্দ কেড়ে নেবে? কেকেআরের জন্য তিনি হয়তো জয়ের কারিগর, কিন্তু ভারতের জন্য তিনি এক মহামূল্যবান সম্পদ। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের ঝকঝকে আলোতে কি তবে দেশের স্বার্থ কিছুটা হলেও ম্লান হয়ে যাচ্ছে?

কেকেআরের হাতে এখনো দুটি ম্যাচ বাকি। ১১ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের যা অবস্থা, তাতে প্রতিটি জয়ই তাঁদের জন্য অক্সিজেনের মতো। কিন্তু সেই জয়ের মূল কারিগর যদি চোটের কবলে পড়ে হারিয়ে যান, তবে সেই দায় কে নেবে? মাঠের লড়াই শেষে এখন নজর থাকবে বিসিসিআইয়ের হস্তক্ষেপের দিকে, কারণ লড়াইটা এখন কেবল চার ওভারের নয়, বরং দেশের আর ফ্রাঞ্চাইজির।









