কার হাতে বিশ্বকাপ দেখছে সুপার কম্পিউটার?

ফুটবল রোমান্টিকদের আবেগকে পাশে সরিয়ে রেখে, কোটি কোটি ডাটা আর গাণিতিক সমীকরণের জটিল জালে কম্পিউটার মেতেছে এক নিখুঁত ভবিষ্যদ্বাণীর খেলায়।

ফুটবলের মহোৎসবের দুয়ারে দাঁড়িয়ে যখন কোটি ভক্তের হৃদয় কাঁপছে, ঠিক তখনই সুপার কম্পিউটারের গণনায় মিলল সবচেয়ে বড় পূর্বাভাস। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ট্রফি এবার কার ঘরে যাবে, তা নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই। তবে সব হিসাব-নিকাশ উল্টে দিয়ে সুপারকম্পিউটার অপ্টা স্পষ্ট জানিয়ে দিল, স্পেনই হতে যাচ্ছে এবারের বিশ্বজয়ের সবচেয়ে বড় দাবিদার।

বিশ্বকাপের আসর ঘনিয়ে এলেই চায়ের কাপে ঝড় ওঠে, শুরু হয় নানা মুনির নানা মত আর ভবিষ্যৎবাণীর খেলা। সেই চিরচেনা ঐতিহ্যের ধারায় এবার রক্তমাংসের মানুষের পাশাপাশি যোগ দিয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এক দানবীয় সুপার কম্পিউটার। ফুটবল রোমান্টিকদের আবেগকে পাশে সরিয়ে রেখে, কোটি কোটি ডাটা আর গাণিতিক সমীকরণের জটিল জালে কম্পিউটার মেতেছে এক নিখুঁত ভবিষ্যদ্বাণীর খেলায়।

বিশাল এই টুর্নামেন্টের ভাগ্য নির্ধারণ করতে বিখ্যাত অপ্টা সুপার কম্পিউটার এবার এক বা দুবার নয়, পুরো ১০ হাজার বার নকল ম্যাচের সিমুলেশন চালিয়েছে। সেই অবিশ্বাস্য গবেষণার শেষে কম্পিউটারটি রায় দিয়েছে, ১৬.১% সম্ভাবনা নিয়ে এবারের সোনালী ট্রফি উঁচিয়ে ধরার দৌড়ে সবার চেয়ে এগিয়ে রয়েছে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেন।

তবে ২০১০ সালের বিশ্বকাপজয়ী স্পেনের জন্য এই পথটা মোটেও নিষ্কণ্টক হবে না, কারণ তাদের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে আরও অনেক পরাশক্তি। গত দুই বিশ্বকাপ ধরে ফাইনাল খেলে আসা কিলিয়ান এমবাপ্পের ফ্রান্স ১৩% এবং দীর্ঘদিনের ট্রফি-ক্ষুধার্ত ইংল্যান্ড ১১.২% সম্ভাবনা নিয়ে লড়বে সমানে সমানে। 

অন্যদিকে লিওনেল মেসির ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকেও খুব বেশি পেছনে রাখা যাচ্ছে না। ১০.৪% সম্ভাবনা নিয়ে ট্রফি ধরে রাখার মিশনে নামবে তাঁরা। এরপরেই আছে বিশ্বজয়ের লক্ষ্যে থাকা পর্তুগাল আর দুই যুগ ধরে হেক্সার অপেক্ষায় থাকা ব্রাজিল। তবে, একেবারে নতুন কোনো দেশের সোনালি ট্রফি হাতে নেওয়ার সম্ভাবনা বেশ কম বলেই জানাচ্ছে সুপারকম্পিউটার। 

এবারই প্রথম ৪৮টি দল নিয়ে আয়োজিত হতে যাওয়া এই ঐতিহাসিক বিশ্বকাপে ভবিষ্যদ্বাণী করাটা যেকোনো মানুষের জন্যই এক অসম্ভব চ্যালেঞ্জ। যান্ত্রিক ফুটবলের এই যুগে ছকবাঁধা কৌশলের আড়ালে কোন দলের ভাগ্য কতটা সুপ্রসন্ন, তা জানতে এখন শুধু মাঠের লড়াইয়ের অপেক্ষা। কম্পিউটার তো তার রায় দিয়ে দিল, এবার সবুজ ঘাসের ক্যানভাসে আসল ইতিহাস লেখার পালা।

লেখক পরিচিতি

বেঁচে আছি না পড়া বইগুলো পড়ব বলে

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

Share via
Copy link