এই আর্জেন্টিনার নজর শুধুই বিশ্বকাপ ট্রফিতে!

লিওনেল মেসি মাঠে নেই। তবু আর্জেন্টিনা আছে সেই চেনা রূপেই। বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের খেলায় কোনো জড়তা নেই, নেই আত্মতুষ্টির ছাপও। বরং নতুন মুখ, নতুন কম্বিনেশন আর বেঞ্চের শক্তি দিয়েই আরও একবার নিজেদের সামর্থ্যের জানান দিল আলবিসেলেস্তেরা। হন্ডুরাসকে হারাল ২-০ গোলের ব্যবধানে।

ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল আর আক্রমণের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখে আর্জেন্টিনা। মাঝমাঠে দ্রুত পাস আদান-প্রদান, উইং দিয়ে ওঠানামা আর প্রতিপক্ষের রক্ষণে অবিরাম চাপ, সব মিলিয়ে শুরু থেকেই বোঝা যাচ্ছিল, ম্যাচটা নিজেদের নিয়ন্ত্রণেই রাখতে চায় স্কালোনির শিষ্যরা।

তবে গোলের দেখা পেতে অপেক্ষা করতে হয়েছে ৩৬ মিনিট পর্যন্ত। সেই সময় বক্সের ভেতরে ফাউলের শিকার হয় আর্জেন্টিনা। রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজাতেই দায়িত্ব নেন লাউতারো মার্টিনেজ। স্পট কিক থেকে কোনো ভুল করেননি তিনি। গোলরক্ষককে ভুল পথে পাঠিয়ে বল জালে জড়িয়ে দলকে এগিয়ে দেন ১-০ ব্যবধানে।

এরপর বিরতিতে যাওয়ার আগে স্কোরলাইন ওই ১-০। তবে ফিরে এসে আরও ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করে আকাশী-নীলরা। একের পর এক আক্রমণের পসরা সাজিয়ে বসে। যতটুকু চেপে রাখা যায় প্রতিপক্ষ, তার সবটাই করেছে তারা।

কিছু সহজ সুযোগ হাতছাড়া হয় বটে, তবে সেটা খুব বেশি ক্ষতি করতে পারেনি উড়তে থাকা আর্জেন্টিনার। ৫৫ মিনিটে আবারও প্রতিপক্ষের জাল ভেদ করে ফেলে তারা। এবারও মার্টিনেজের তেলেসমাতি। দুর্দান্ত ব্যাকহিল পাসে বল বানিয়ে দেন জুলিয়ানো সিমিওনেকে। তিনিও ভুল করেননি, একেবারে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে এগিয়ে দেন আর্জেন্টিনাকে। ২-০ গোলেই লেখা হয় ম্যাচের ভাগ্য।

এই ম্যাচে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় ছিল আর্জেন্টিনার একাধিক এক্সপেরিমেন্ট। স্কালোনি নিয়মিত একাদশের বাইরে থাকা বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়কে সুযোগ দিয়েছেন। নতুন কম্বিনেশন, নতুন জুটি খোঁজার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, মাঠের খেলায় কোথাও ছন্দপতন চোখে পড়েনি। বরং বেঞ্চ থেকে নামা ফুটবলাররাও দেখিয়েছেন, তারাও মূল একাদশের খেলোয়াড়দের মতোই প্রস্তুত এবং আত্মবিশ্বাসী।

মেসি ছাড়াও যে আর্জেন্টিনা দাপট দেখাতে পারে, বেঞ্চের খেলোয়াড়রাও যে বড় দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত, সেটারই স্পষ্ট প্রমাণ মিলল এই ম্যাচে। সেই সাথে আরও এক ঘোষণা দিয়ে রাখল আর্জেন্টিনা, বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা আবারও বিশ্বকাপ লুফে নিতেই এসেছে।

লেখক পরিচিতি

স্টাফ রিপোর্টার

Share via
Copy link