শুরুটা ছিল দৃঢ়তার, শেষটা যেভাবে চেয়েছিলেন – সেটা করতে পারলেন না। ফিফটির পর গতি বাড়াতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত ৬৭ রানে থামলেন শান্ত, রেনশর ফাঁদে পড়ে ফিরে গেলেন সাজঘরে।
৫৭ বলে ক্যারিয়ারের ১২তম ওয়ানডে ফিফটি পূর্ণ করার পর নাজমুল হোসেন শান্ত চেষ্টা করছিলেন গিয়ার বদলাতে। কিন্তু একদিকে রানের গতি শ্লথ হয়ে পড়ছিল, অন্যদিকে লিটন দাসের বিদায় চাপটা আরও বাড়িয়ে দেয়। সেই চাপের মধ্যেই রান বাড়াতে গিয়ে ম্যাট রেনশর বলে ক্যাচ দিয়ে ফিরে গেলেন শান্ত। ব্যক্তিগত সংগ্রহ ৮৬ বলে ৬৭ রান, ৯টি চার ও ১টি ছক্কা দিয়ে সাজানো ছিল ইনিংস।
ফিফটির পর ছবিটা বদলে যায়। যে শান্তকে ফিফটি পর্যন্ত দেখা গেছে আত্মবিশ্বাসী ও স্থির, পরের ২২ বলে তিনি পেলেন মাত্র ১২ রান। লিটন মাত্র ৯ বলে ৭ রান করে ফিরে যান। নতুন ব্যাটার তাওহিদ হৃদয়কে নিয়ে সামলানোর চেষ্টা করলেন শান্ত, কিন্তু রানের চাকা আর সেভাবে সচল হচ্ছিল না।

একের পর এক ডট বল জমতে থাকে, রানের চাপ বাড়তে থাকে। ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়া পরিস্থিতিতে ইনিংস টানতে টানতে শেষমেশ রেনশর ফাঁদে পা দিলেন, ক্যাচ গেল ফিল্ডারের হাতে।
তবু এই ইনিংস বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সাইফ হাসানের দ্রুত বিদায়ের পর তানজিদ তামিমের সঙ্গে দ্বিতীয় উইকেটে ৯৬ রানের জুটি গড়েন শান্ত, তারপর তানজিদ ফিরে গেলে একাই হাল ধরেন।
মিডল ওভারে যখন রান তোলা কঠিন হয়ে উঠছিল, তখনও পড়ে থাকার মানসিকতাটা ছিল তার মধ্যে। ২০১১ সালের পর ১৫ বছরে প্রথমবার ওয়ানডে সিরিজ খেলতে আসা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই ৬৭ রান বাংলাদেশকে মাঝপথে ভেঙে পড়তে দেয়নি।

৬৭ রানের এই ইনিংস সংখ্যায় ছোট মনে হলেও, কঠিন পরিস্থিতিতে দলকে যেভাবে টেনে রেখেছিলেন শান্ত — সেটাই দলের জন্য তাঁর সবচেয়ে বড় অবদান।










