স্বাগতিক হওয়ার সুবিধা এক জিনিস, কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শক্তি হতে পারে তাদের দলটাই। বিভিন্ন সংস্কৃতি, ভিন্ন ভিন্ন ফুটবল ঐতিহ্য এবং অভিবাসী পরিবারের উত্তরাধিকার মিশিয়ে কোচ মরিসিও পোচেত্তিনো গড়েছেন এমন একটি স্কোয়াড, যাকে অনেকেই আমেরিকার ইতিহাসের সবচেয়ে প্রতিভাবান বিশ্বকাপ দল হিসেবে দেখছেন।
নেদারল্যান্ডস, ইংল্যান্ড, জার্মানি, মেক্সিকোসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের শিকড় রয়েছে এই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে। ২৬ সদস্যের স্কোয়াডের ১৩ জনেরই রয়েছে দ্বৈত নাগরিকত্ব। সার্জিনো দেস্তের জন্ম নেদারল্যান্ডসে, ফোলারিন বালোগান বেড়ে উঠেছেন ইংল্যান্ডে, আর মালিক তিলম্যান জার্মানির বয়সভিত্তিক দল ছেড়ে বেছে নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রকে।
দলের সবচেয়ে আলোচিত নামগুলোর একটি টিম উইয়াহ। লাইবেরিয়ার কিংবদন্তি ও সাবেক ব্যালন ডি’অর জয়ী জর্জ উইয়াহছেলে এবার বিশ্বকাপের মঞ্চে যুক্তরাষ্ট্রের স্বপ্ন বয়ে বেড়াবেন।

গ্রুপ ডি-তে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিপক্ষ প্যারাগুয়ে, অস্ট্রেলিয়া ও তুরস্ক। তিনটি ম্যাচই হবে নিজেদের পরিচিত পরিবেশে—লস অ্যাঞ্জেলেস ও সিয়াটলে। ফলে মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি গ্যালারির সমর্থনও থাকবে পুরোপুরি তাদের পক্ষেই।
পরিসংখ্যানও আশার কথা বলছে। অপ্টা সুপারকম্পিউটার যুক্তরাষ্ট্রকে গ্রুপ পর্ব পেরোনোর অন্যতম ফেবারিট হিসেবে দেখছে। তবে আসল পরীক্ষা শুরু হবে নকআউট পর্বে। তবুও অধিনায়ক টাইলার অ্যাডামসের লক্ষ্য বেশ উঁচুতেই– সেমিফাইনাল। সেই লক্ষ্য পূরণ হলে ১৯৩০ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শেষ চারে জায়গা করে নেবে যুক্তরাষ্ট্র।
ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিকের নেতৃত্ব, বালোগানের গোল করার ক্ষমতা এবং বহুসাংস্কৃতিক এই স্কোয়াডের আত্মবিশ্বাস ,সবকিছু একসঙ্গে কাজ করলে ২০২৬ বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্র হতে পারে সবচেয়ে বড় চমকের নাম।

ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ, গ্যালারিতে নিজেদের সমর্থক, আর মাঠে প্রজন্মের অন্যতম সেরা আমেরিকান দল। ইতিহাস গড়ার মঞ্চ প্রস্তুত, এখন শুধু দেখার পালা—এই ‘মেল্টিং পট’ স্কোয়াড কতদূর যেতে পারে।











