জন্মদিনে প্রটোকল ভাঙলেন আনচেলত্তি

জন্মদিন উপলক্ষে আনচেলত্তির জন্য আয়োজন করা হয় দলের ঐতিহ্যবাহী ‘বার্থডে টানেল’। সাধারণত এই মজার আয়োজনটি শুধু খেলোয়াড়দের জন্যই সংররিক্ষত রাখা হয়।

বিশ্বকাপ প্রস্তুতির ব্যস্ততার মধ্যেও ব্রাজিল ফুটবল দলের অনুশীলন শিবিরে দেখা গেল এক ভিন্ন আবহ। ৬৭তম জন্মদিনে দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে আনন্দঘন মুহূর্ত শেয়ার করে নিলেন প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি। আর সেই উপলক্ষে তৈরি হয় এক বিরল আবেগঘন দৃশ্য।

জন্মদিন উপলক্ষে আনচেলত্তির জন্য আয়োজন করা হয় দলের ঐতিহ্যবাহী ‘বার্থডে টানেল’। সাধারণত এই মজার আয়োজনটি শুধু খেলোয়াড়দের জন্যই সংররিক্ষত রাখা হয়। তবে এবার ব্যতিক্রম ঘটিয়ে অংশ নেন দলের প্রধান কোচ নিজেই। দুই সারিতে দাঁড়িয়ে থাকা ফুটবলারদের মাঝখান দিয়ে দৌড়ে যাওয়ার সময় চলে হাসি-ঠাট্টা আর বন্ধুত্বপূর্ণ খুনসুটি।

তবে পুরো ঘটনায় ফুটে ওঠে খেলোয়াড়দের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। আনচেলত্তির প্রতি সম্মান দেখিয়ে তারা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি সংযত ছিলেন। এতে কোচ ও দলের সদস্যদের মধ্যে গড়ে ওঠা দৃঢ় সম্পর্কই স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

আধুনিক ফুটবলের তীব্র চাপ ও প্রত্যাশার মাঝে এমন মানবিক মুহূর্ত দলীয় বন্ধনকে আরও শক্তিশালী করে। কয়েক মিনিটের জন্য যেন কোচ-খেলোয়াড়ের আনুষ্ঠানিক দূরত্ব মুছে গিয়ে সবাই এক পরিবারের সদস্যে পরিণত হন।

১৯৫৯ সালের ১০ জুন ইতালির রেজিওলো শহরে জন্ম নেওয়া আনচেলত্তি প্রথমে একজন সফল মধ্যমাঠের খেলোয়াড় হিসেবে পরিচিতি পান। খেলোয়াড়ি জীবনে তিনি পারমা, রোমা ও মিলানের হয়ে মাঠ মাতিয়েছেন। পরে কোচ হিসেবে নিজেকে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সফল ব্যক্তিত্বে পরিণত করেন।

ইউরোপের পাঁচটি শীর্ষ লিগ জয়ের একমাত্র কোচ হওয়ার পাশাপাশি উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপাও জিতেছেন পাঁচবার। কোচিং জীবনে তিনি ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি ও স্পেনের একাধিক শীর্ষ ক্লাবের দায়িত্ব পালন করেছেন। শান্ত স্বভাব, বিচক্ষণ নেতৃত্ব এবং খেলোয়াড়দের সঙ্গে সহজ সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষমতা তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।

এখন তাঁর সামনে নতুন মিশন—বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে সফল দল ব্রাজিলকে আবারও বিশ্বসেরার আসনে ফিরিয়ে আনা। ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নে বিভোর ব্রাজিল বিশ্বাস করছে, ইতালিয়ান এই কোচের অভিজ্ঞতা তাদের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটাতে পারে।

Share via
Copy link