বছর কয়েক আগেও তিনি ছিলেন ভারতের পাঞ্জাবের একজন সাধারণ ক্রিকেটার। আজ সেই নিখিল চৌধুরী জায়গা পেয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার টি-টোয়েন্টি স্কোয়াডে। বাংলাদেশ সফরের জন্য ঘোষিত দলে সুযোগ পাওয়া এই অলরাউন্ডারের গল্পটা অনেকটা সিনেমার চিত্রনাট্যের মতো।
পাঞ্জাবে জন্ম নেওয়া নিখিল যুব পর্যায়ে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। শুরুতে পেস বোলার হওয়ার স্বপ্ন দেখলেও পরে নিজেকে গড়ে তোলেন ব্যাটিং অলরাউন্ডার হিসেবে। পাঞ্জাবের হয়ে খেলার সময় ড্রেসিংরুম ভাগ করেছেন যুবরাজ সিং ও হরভজন সিংদের মতো তারকাদের সঙ্গে।
২০১৯ সালে ছুটি কাটাতে অস্ট্রেলিয়ায় গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু কোভিড-১৯ মহামারির কারণে দেশে ফেরা হয়নি। ব্রিসবেনে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্তই বদলে দেয় তার জীবন। কাজের পাশাপাশি স্থানীয় ক্রিকেটে নিয়মিত খেলতে থাকেন এবং ধীরে ধীরে নজর কাড়েন নির্বাচকদের।

২০২৩-২৪ মৌসুমে হোবার্ট হারিকেন্সের হয়ে বিগ ব্যাশ লিগে অভিষেক হয় নিখিলের। পাওয়ার হিটিং সামর্থ্য, আক্রমণাত্মক ব্যাটিং এবং ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা দ্রুতই তাকে আলোচনায় নিয়ে আসে। হারিস রউফকে হাঁকানো একটি বিশাল ছক্কার ভিডিও তখন সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল হয়েছিল।
বাংলাদেশি সমর্থকদের কাছেও নিখিল অপরিচিত নন। হারিকেন্স-এ খেলার সময় বাংলাদেশের লেগস্পিনার রিশাদ হোসেনের সঙ্গে তার দারুণ বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। রিশাদের পারফরম্যান্স নিয়ে প্রকাশ্যেই প্রশংসা করেছেন তিনি, যা বাংলাদেশি ক্রিকেটভক্তদের মধ্যেও তাকে পরিচিত মুখে পরিণত করেছে।
৩০ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডারের জন্য জাতীয় দলের ডাক এসেছে অনেকটা ঘুরপথে। পাঞ্জাব থেকে ব্রিসবেন, সেখান থেকে বিগ ব্যাশের মঞ্চ পেরিয়ে অস্ট্রেলিয়ার টি-টোয়েন্টি স্কোয়াডে জায়গা পাওয়া, নিখিল চৌধুরীর যাত্রা প্রমাণ করে, ক্রিকেটে স্বপ্ন পূরণের জন্য কখনোই দেরি হয়ে যায় না। এখন অপেক্ষা জাতীয় দলের জার্সিতে নিজের গল্পটাকে আরও বড় করে লেখার।












