অজিদের হোয়াইটওয়াশের লজ্জা থেকে বাঁচালেন কনোলি

পুরো কাজটাই একা হাতে করতে হয়েছে কনোলিকে। আউট হওয়ার আগে ১৩৪ বলের ইনিংস থেকে আসে মোট ১৪৯ রান। যেখানে ছিল ১৩ চার আর ছয় ছক্কার মার। 

বাংলাদেশের মাটিতে এসে যেন নিজের প্রতিভার প্রকাশ পাওয়া যাচ্ছিল না কুপার কনোলির ব্যাট থেকে। এরই মধ্যে সিরিজ হারিয়ে বসেছে অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু, হোয়াইটওয়াশের লজ্জা থেকে বাঁচার দিনেই অজিদের নায়ক হয়ে উঠলেন কনোলি। একা হাতে ম্যাচ জিতিয়ে স্বাক্ষর রাখলেন নিজের অসীম প্রতিভার। 

প্রথম মাচে ৩৫ রানের ইনিংস খেললেও আগের ম্যাচে সাজঘরে ফিরে যেতে হয়েছিল রানের খাতা না খুলেই। তবে, সিরিজের অন্তিম ম্যাচে মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে এক ভিন্ন চিত্র আঁকলেন ২২ বছরের তরুণ কনোলি।

বাংলাদেশের দেওয়া ২৭৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে চমৎকার শুরু আসে কনোলির ব্যাট থেকে। যদিও ক্রিজের অপর পাশে ভিন্ন চিত্র দেখতে হয়েছে সঙ্গীদের কাছ থেকে। ডানহাতি এই ব্যাটার যখন শাসন করছেন বাংলাদেশের বোলারদের, সেখানে বাকি ব্যাটারদের ফিরে যেতে দেখেছেন ইনিংস বড় করতে না পেরে।

বেশ চাপের মুখেই ব্যাট চালাতে হলেও দমে যাননি কনোলি। তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমানদের বল অনায়াসে বাউন্ডারি ছাড়া করেছেন। ১০০ এর বেশি স্ট্রাইকরেট ধরে রেখে তুলে ফেলেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারে নিজের প্রথম শতরান।  

আর কোনো অজি ব্যাটারই ত্রিশোর্ধ্ব ইনিংস পর্যন্ত খেলতে পারেননি। পুরো কাজটাই একা হাতে করতে হয়েছে কনোলিকে। আউট হওয়ার আগে ১৩৪ বলের ইনিংস থেকে আসে মোট ১৪৯ রান। যেখানে ছিল ১৩ চার আর ছয় ছক্কার মার। 

কুপার কনোলির এমন অতিমানবীয় ইনিংসের দিনে দুর্দান্ত বোলিং করেন শরিফুল ইসলাম। সিরিজে প্রথম বার সুযোগ পেয়েই শিকার করে নেন নিজের ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম ফাইফার। শিকার করেন ছয় উইকেট। অজিদের নয় উইকেট ফেলে দিলেও কনোলির ইনিংসের কাছেই মূলত বাংলাদেশকে হার মানতে হয়েছে। অস্ট্রেলিয়া জিতে তিন বল হাতে রেখে।  

সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে ব্যাটিং লাইনআপের পারফর্ম করার অভাবেই হারের মুখোমুখি হতে হয়েছিল অস্ট্রেলিয়াকে। কিন্তু, শেষ ম্যাচে সব আক্ষেপ একাই ঘুচিয়ে দিলেন কুপার কনোলি। এক উইকেটের জয়ে হোয়াইটওয়াশের লজ্জা থেকে বেঁচে গেল অস্ট্রেলিয়া।

লেখক পরিচিতি

বেঁচে আছি না পড়া বইগুলো পড়ব বলে

Share via
Copy link