ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম ফাইফারটা তুলে নিলেন শরিফুল ইসলাম। অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং একাই গুঁড়িয়ে দিলেন। প্রথম ওভারে এসেই জোড়া শিকার, ৪৬তম ওভারে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া দুই উইকেট কিংবা ৪৮তম ওভারে এসে মেইডেন সমেত উইকেট আদায় করা, কী করেননি শরিফুল? তবুও হয়তো পরের ম্যাচেই একাদশ থেকে বাদ পড়তে হবে। তবে মিরপুরে বাংলাদেশ যেভাবে কামব্যাক দিল শরিফুলের হাত ধরে, সেটা অবিশ্বাস্য বললেও কম বলা হবে।
২৬৬ রান, পাঁচ উইকেট হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। জিততে হলে দরকার মাত্র নয় রান। হাতে পাঁচ ওভার। এই সময়ে এসে আর কিছুই কি অবশিষ্ট থাকে বাংলাদেশের জন্য? সেখানেই শরিফুল ইসলাম হাজির হলেন ম্যাজিক নিয়ে। এক রান খরচায় দুই উইকেট নিয়ে হারতে বসা ম্যাচে প্রাণের সঞ্চার ঘটালেন।
এখানেই শেষ না, ৪৮তম ওভারে এসে কোনো রানই দিলেন না। তবে ঠিকই আদায় করে নেন উইকেট। অস্ট্রেলিয়ার বুক কেঁপে ওঠে। হঠাৎ করেই যেন শরিফুল নামক কোনো দমকা হাওয়া উড়িয়ে নিয়ে যায় সাজানো সবকিছু।

৪৯তম ওভারে মুস্তাফিজের ঝলক। ১৪৯ রানে দাঁড়িয়ে থাকা কুপার কনোলির বিদায় ঘটে। জিততে হলে তখনও অস্ট্রেলিয়ার দরকার চার রান, হাতে এক উইকেট। খেলা শেষ ওভারে গড়ালে এক উইকেটের পরাজয় মেনে নিতে হয়েছে বাংলাদেশকে। তবে ২৬৬ রানে পাঁচ উইকেট হারানো দল নয় রান করতে গিয়েই যে লেজেগোবরে অবস্থা করেছে, তার কৃতিত্ব যে এই শরিফুলেরই।
প্রথম দিকে যখন অস্ট্রেলিয়া দাপট দেখিয়েছে, তখনও এক ওভারের ম্যাজিক দিয়ে শরিফুল ম্যাচে ফিরিয়েছেন বাংলাদেশকে। যখন উইকেট লাগবেই, তখনও হাজির হয়েছেন ত্রাতা হিসেবে। ৪৬তম ওভারে কোথাও না থাকা ম্যাচে বাংলাদেশকে দেখিয়েছেন জয়ের সম্ভাবনা। ১০ ওভারে ৪৮ রান দিয়ে একাই নিয়েছেন ছয় উইকেট।
এই যে এত কিছু করলেন, পরের ম্যাচে ভাগ্যে কী আছে সেটা তিনি জানেন না। অবশ্য বাংলাদেশ যে বদলে গেছে, এটাই যে তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ। শরিফুলরা যে এখন পেস দিয়ে ডমিনেট করতে শিখে গেছে, এর থেকে ভালো বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য আর কী হতে পারে?











