এলেন, দেখলেন, হ্যাটট্রিক করলেন

একালের ফুটবল সমর্থকরা আদতে মেসি নিয়ন্ত্রিত এক পৃথিবীতে বসবাস করে। মেসি যাই করেন সেই পৃথিবীতে প্রজারূপি ভক্তকূল তাই দেখে জীবনে গড়ে। বারবার মেসির অনন্য সব কীর্তি মুগ্ধ চোখে দেখাতেই তাঁদের আনন্দ।

রাজা ছাড়া কিসের বিশ্বকাপ! তিনি এলেন, দেখলেন, জোড়া গোল করলেন, হ্যাটট্রিক করলেন। বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড করে ফেললেন।

ব্যাস, বিশ্বকাপটা শুর হল এতদিনে এসে। লিওনেল আন্দ্রেস মেসিকে ছাড়া কিসের বিশ্বকাপ! রাজার বিশালত্বটাই তো এখানে, তিনি আসবেন আর সবাইকে পায়ের নিচে চলে যেতে বাধ্য করবেন।

আলজেরিয়ার তাকিয়ে দেখা ছাড়া কিই বা করার থাকতে পারে। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই হ্যাটট্রিক মেসি ছাড়া কার পায়েই বা বেশি মানায়।

বিশ্বকাপ ইতিহাসে লিওনেল মেসির গোল এখন ১৬। ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় আসরে এতগুলো গোল আর করতে পেরেছেন মাত্র একজন। তিনি মিরোস্লাভ ক্লোসা।

আর মাত্র একটা গোল করলেই মেসি ছাড়িয়ে যাবেন সবাইকে। বিশ্বকাপ তিনি জিতেছেন চার বছর আগেই। এবার আরেকটা বিশ্বকাপ খেলতে নেমেই বুঝিয়ে দিলেন তাঁর ভেতরের গোল ক্ষুধা আজও প্রথম দিনের মতই আছে।

১৭ মিনিটে গোলের শুরু। প্রথমার্ধে সেটাই আর্জেন্টিনার একমাত্র গোল। দ্বিতীয়ার্ধে ১৬ মিনিটের মধ্যে দুবার আঘাত হানেন। ৬০ ও ৭৬ মিনিটে দুবার লক্ষ্যভেদ করেন, পেয়ে যান আরেক অমরত্ব।

একালের ফুটবল সমর্থকরা আদতে মেসি নিয়ন্ত্রিত এক পৃথিবীতে বসবাস করে। মেসি যাই করেন সেই পৃথিবীতে প্রজারূপি ভক্তকূল তাই দেখে জীবনে গড়ে। বারবার মেসির অনন্য সব কীর্তি মুগ্ধ চোখে দেখাতেই তাঁদের আনন্দ।

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

Share via
Copy link