বিশ্বকাপ তো এই হাল্যান্ডের অপেক্ষাতেই ছিল!

বিশ্বকাপের পর বিশ্বকাপ এসেছে, তবে নরওয়ে থেকেছে কেবলই দর্শক হয়ে। শেষমেষ নিরুপায় হয়ে দলটি শরণাপন্ন হলো আর্লিং হল্যান্ডের, পারলে তিনিই পারবেন উদ্ধার করতে, নরওয়ের জাহাজকে বিশ্বকাপের তীরে পৌঁছে দিতে।

১৯৯৮ সালে শেষবার বিশ্বকাপ খেলেছিল নরওয়ে। এরপর কেটে গেছে ২৮ বছর। বিশ্বকাপের পর বিশ্বকাপ এসেছে, তবে নরওয়ে থেকেছে কেবলই দর্শক হয়ে। শেষমেষ নিরুপায় হয়ে দলটি শরণাপন্ন হলো আর্লিং হল্যান্ডের, পারলে তিনিই পারবেন উদ্ধার করতে, নরওয়ের জাহাজকে বিশ্বকাপের তীরে পৌঁছে দিতে। হল্যান্ড অবশ্য তীরে পৌঁছে দিয়েই ক্ষান্ত হলেন না, বিশ্বকাপ অভিষেকে জোড়া গোল করে বুঝিয়ে দিলেন, বিশ্বকাপটা এতদিন তাঁরই অপেক্ষা করেছে।

ফেরার মঞ্চে নরওয়ের সবচেয়ে বড় তারকা আবারও দেখালেন কেন তাকে বর্তমান সময়ের অন্যতম ভয়ংকর স্ট্রাইকার বলা হয়। ইরাকের বিপক্ষে ম্যাচে গোল করার মতো সুযোগ খুব বেশি পাননি। কিন্তু হল্যান্ডের ক্ষেত্রে সুযোগের সংখ্যা নয়, সুযোগ কাজে লাগানোর দক্ষতাই সবচেয়ে বড় ব্যাপার। আর সেটাই আবারও প্রমাণ করলেন তিনি।

ম্যাচের ২৯ মিনিটে বাঁ প্রান্ত দিয়ে আক্রমণ গড়ে তোলে নরওয়ে। ডেভিড মোলারের নিখুঁত ক্রস বক্সে ভেসে আসে। ঠিক সেই মুহূর্তে ডিফেন্ডারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন হল্যান্ড। এরপর শুধু পা ছুঁইয়ে বল জালে পাঠানো। চোখধাঁধানো ফিনিশিং যাকে বলে।

তবে নাটক তখনও বাকি। ৩৯ মিনিটে ইরাক সমতায় ফেরে। সেটা দেখেই যেন ভ্রু কুঁচকালেন হল্যান্ড। তাঁর রাজত্বে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে এমন সাধ্য কার? চার মিনিটের ব্যবধানে আরও একবার প্রতিপক্ষের জালে আঘাত হানলেন।

ইরাকের ডিফেন্ডার গোলরক্ষকের কাছে ব্যাকপাস করলেন। তবে সমস্যা ছিল গতি, কিছুটা ধীরলয়ে যাচ্ছিল বল, যা বাতাসের বেগে ছুটে চলা হল্যান্ডের সঙ্গে কি আর পেরে ওঠে? ইরাকের দেওয়া উপহার সাদরে গ্রহণ করলেন তিনি। বিশ্বকাপ অভিষেকেই ঝুলিতে গেল দুইখানা সোনার হরিণ। গোলমুখে শট নিয়েছেন পাঁচটি, অন টার্গেট চারটি। বড় মঞ্চটাকে যেন নিজের আকাশ বানিয়ে নিয়েছেন হল্যান্ড, মুক্ত বিহঙ্গের মতো উড়ছেন।

এই জোড়া গোল যে আর পাঁচটা সাধারণ গল্প নয়, এ যে বহুবছরের সাধনার ফল, নরওয়ের দীর্ঘ প্রতীক্ষার গল্প। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে হল্যান্ড করেছেন ১৬ গোল, যা ইউরোপীয় অঞ্চলের সর্বোচ্চ। নিজের ভরাট কাঁধেই টেনে নিয়ে এসেছেন এই দলটাকে।

বিশ্বকাপ এলেই নিজের দেশকে না দেখতে পাওয়ার আক্ষেপ ছিল তাঁর। আজ সেই আক্ষেপের অবসান ঘটেছে। শুধু তাই নয়, যে স্বপ্ন একসময় দূরের মনে হতো, সেটি বাস্তবে রূপ দেওয়ার নায়কও হয়ে উঠেছেন তিনি নিজেই। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই ৪-১ গোলে হল্যান্ডের নরওয়ে উড়িয়ে দিয়েছে ইরাককে।

অবশ্য যে দলটার কাছে আর্লিং হল্যান্ডের মতো একজন গোলশিকারি থাকেন, তখন কোনো স্বপ্নকে অসম্ভব বলার সাহস খুব কম মানুষেরই থাকে।

লেখক পরিচিতি

স্টাফ রিপোর্টার

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link