একটা গোল, আর ডিআর কঙ্গোর ইতিহাস!

পর্তুগালের জাল কাঁপিয়ে কঙ্গো ইতিহাস গড়েছে, অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় ধরে জমে থাকা অপেক্ষার অবসান ঘটিয়েছে।

‘উই হ্যাভ হিস্টরি ইন হিউস্টন!’ধারাভাষ্যকক্ষ থেকে যেন ডিআর কঙ্গোর জন্য ভেসে এলো আবেগের বিস্ফোরণ। পর্তুগালের জাল কাঁপিয়ে কঙ্গো ইতিহাস গড়েছে, অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় ধরে জমে থাকা অপেক্ষার অবসান ঘটিয়েছে।

১৯৭৪ সালে শেষবার বিশ্বকাপ খেলেছিল কঙ্গো। পুরনো মলাটে তখন অবশ্য দেশটির নাম ছিল জাইরে । পশ্চিম জার্মানির সেই বিশ্বকাপে আফ্রিকার প্রথম সাব-সাহারান প্রতিনিধি হিসেবে ইতিহাস গড়েছিল তারা। কিন্তু সেই ইতিহাস সুখকর ছিল না। তিন ম্যাচে তিন হার, শূন্য গোল আর ১৪ গোল হজম করে বিদায় নিতে হয়েছিল জাইরেকে।

এরপর কেটে গেছে ৫২ বছর। প্রজন্ম বদলেছে, দেশের নাম বদলেছে, ফুটবলও বদলেছে। কিন্তু বিশ্বকাপের মঞ্চে কঙ্গোর নামের পাশে একটি সংখ্যা অপরিবর্তিত ছিল, গোল শূন্য। সেই অভিশাপ ভাঙল হিউস্টনের এনআরজি স্টেডিয়ামে।

পর্তুগালের বিপক্ষে ম্যাচের শুরুটা অবশ্য স্বপ্নের ছিল না। মাত্র ছয় মিনিটেই গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়ে কঙ্গো। বিশ্বকাপে প্রত্যাবর্তনের ম্যাচটা যে কঠিন হতে যাচ্ছে, তা তখনই বুঝে গিয়েছিল সবাই। কিন্তু সেবাস্তিয়ান দেসাব্রের দল হাল ছাড়েনি। বরং ধীরে ধীরে ম্যাচে নিজেদের খুঁজে নেয়।

প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিট। বাঁ প্রান্তে বল পেলেন আর্থার মাসুয়াকু। অভিজ্ঞ এই ফুলব্যাক চোখ তুলে দেখলেন বক্সে ঢুকে পড়েছেন ইয়োয়ান উইসা। মুহূর্তের মধ্যে উড়ে এল নিখুঁত এক ক্রস। আর সেই বলকে শক্তিশালী হেডে জালে পাঠিয়ে দিলেন উইসা। তাতেই সৃষ্টি হলো ইতিহাস, যার মালিকও উইসা নিজেই।

আরও বছর ৫০ পর যখন কঙ্গোর নাম ভাসবে বিশ্বকাপে তখনও যে উইসা নামটা উচ্চারিত হবে জোর গলায়। তাঁর হাত ধরেই যে আজীবন না পাওয়া এক বস্তুর সন্ধান পেয়েছে কঙ্গো।

লেখক পরিচিতি

স্টাফ রিপোর্টার

Share via
Copy link