রেকর্ড ভাঙার বিশ্বকাপ!

২০০৬ বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ২৮টি লাল কার্ড দেখানো হয়েছিল। এবার রেফারিরা যেভাবে কার্ড দেখাচ্ছেন তাতে এই রেকর্ডও ভেঙে যেতে পারে। 

২০২৬ বিশ্বকাপকে রেকর্ড ভাঙার বিশ্বকাপ বললেও ভুল হবে না। দীর্ঘদিন ধরে যেসব রেকর্ড অক্ষত ছিল তা এখন ভেঙে পড়ার মুখে দাঁড়িয়ে। গ্রুপপর্বের সকল ম্যাচও শেষ হয়নি, এরই মধ্যে বিশ্বমঞ্চের চিরচেনা ইতিহাস নতুন করে লিখতে শুরু করেছেন লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপ্পে আর আর্লিং হালান্ডের মতো মহাতারকারা।

আর্জেন্টিনার প্রথম ম্যাচেই জাদুকরী হ্যাটট্রিক করে জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসার সর্বোচ্চ ১৬ গোলের রেকর্ড স্পর্শ করেছেন লিওনেল মেসি। ২০১৪ সাল থেকে যে রেকর্ড নিজের করে রেখেছিলেন ক্লোসা, সেই রেকর্ড ভেঙে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে জেতে মেসির প্রয়োজন আর এক গোল। অন্যদিকে, ফ্রান্সের সর্বকালের সেরা গোলদাতা হয়ে এমবাপ্পে এখন ১৪ গোল নিয়ে মেসির ঠিক পেছনেই ছুটছেন।

হ্যারি কেইন ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করে গ্যারি লিনেকারের ১০ গোলের কীর্তি ছুঁয়েছেন। আর এক গোল করলেই তিনি হবেন বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা। তবে, রেকর্ড ভাঙার এই মিছিলে সবচেয়ে বেশি রোমাঞ্চ ছড়াচ্ছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ৪১ বছর ১৩২ দিন বয়সে মাঠে নেমে তিনি এখন বিশ্বকাপের ইতিহাসের বয়োজেষ্ঠ্য আউটফিল্ড খেলোয়াড়।

কঙ্গোর বিপক্ষে মাঠে নেমে মেসি ও রোনালদো উভয়ই এখন ছয়টি বিশ্বকাপে খেলার অনন্য কীর্তি স্পর্শ করেছেন। এবারের আসরে রোনালদো আর একটি গোল করতে পারলেই প্রথম ফুটবলার হিসেবে টানা ছয়টি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করার এক অবিস্মরণীয় কীর্তি গড়ে ফেলবেন সিআরসেভেন।

রেকর্ডের এই মঞ্চে পিছিয়ে নেই ম্যানসিটির গোলমেশিন আর্লিং হালান্ডও। ইরাকের বিপক্ষে জোড়া গোল করে নরওয়ের ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপে জোড়া গোল করার গৌরব অর্জন করেছেন তিনি। মাত্র এক ম্যাচেই তিনি ছুঁয়ে ফেলেছেন নরওয়ের হয়ে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড।

রূপকথার এক গল্প লিখেছেন কেপ ভার্দের ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক ভোজিনহা। স্পেনের মতো পরাশক্তিকে রুখে দিয়ে তিনি বিশ্বকাপে কোনো দেশের অভিষেক ম্যাচে এবং নিজের প্রথম ম্যাচে ক্লিন শিট রাখা প্রবীণতম গোলরক্ষক হিসেবে ইতিহাসে নাম লিখিয়েছেন।

আর মাত্র একটি জয় পেলেই ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশম ছুঁয়ে ফেলবেন কোচ হিসেবে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি জয়ের রেকর্ড। সর্বোচ্চ ১৬টি ম্যাচ জয়ের রেকর্ড নিয়ে সবার আগে আছেন জার্মানির হেলমুট শোন। রেকর্ডের দিক দিয়ে পিছিয়ে নেই লাল কার্ডও। ২০০৬ বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ২৮টি লাল কার্ড দেখানো হয়েছিল। এবার রেফারিরা যেভাবে কার্ড দেখাচ্ছেন তাতে এই রেকর্ডও ভেঙে যেতে পারে। 

রেকর্ডের জন্মই হয় অন্য কারো হাত দিয়ে ভেঙে যাওয়ার জন্যে। বিশ্বকাপের ৯৬ বছরের ইতিহাসে প্রতি আসরের কোনো না কোনো নতুন রেকর্ড হয়েছে, পুরাতন রেকর্ডের জায়গায় স্থান করে নিয়েছেন নতুন কেউ। এবারের বিশ্বকাপও সেই একই রূপ নিয়ে হাজির হচ্ছে আমাদের সামনে। 

 

লেখক পরিচিতি

বেঁচে আছি না পড়া বইগুলো পড়ব বলে

Share via
Copy link