বিশ্বমঞ্চে হ্যারি কেনের গ্রেটনেস!

এ যুগের আর্লিং হাল্যান্ডকে নিয়ে যতটা চর্চা হয়, কেইন তাঁর সিকিভাগও পান না। বিশ্বকাপের মঞ্চে তাই আরও একবার দেখিয়ে দিলেন, তিনি কে, কতটা তাঁর মান।

নম্বর নাইন থেকে নম্বর ফাইভ, সবখানেই হ্যারি কেনের সরব উপস্থিতি। এই নিয়ে আলোচনাটা সবসময়। তবে এর মাঝেই একটা জিনিস সবাই ভুলে যায়, কেইন কত বড় মাপের স্ট্রাইকার। এ যুগের আর্লিং হাল্যান্ডকে নিয়ে যতটা চর্চা হয়, কেইন তাঁর সিকিভাগও পান না। বিশ্বকাপের মঞ্চে তাই আরও একবার দেখিয়ে দিলেন, তিনি কে, কতটা তাঁর মান।

৭৪ মিনিট পর্যন্ত ইংল্যান্ডের চোখে-মুখে ছিল ভয়। বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের শঙ্কা তখন বাস্তব হয়ে উঠছিল। ব্রায়ান সিপেঙ্গার গোলে এগিয়ে থাকা ডিআর কঙ্গো অবিশ্বাস্য এক ইতিহাসের খুব কাছাকাছি। অন্যদিকে ইংল্যান্ডের প্রতিটি আক্রমণ আটকে যাচ্ছিল লিওনেল এমপাসি নামের এক অদম্য দেয়ালে। বেলিংহাম ব্যর্থ, রাশফোর্ড ব্যর্থ, কেনও বারবার হতাশ। মনে হচ্ছিল, এই দিনটা বুঝি ইংল্যান্ডের নয়।

কিন্তু সময়ের একটা অদ্ভুত অভ্যাস আছে। যখন সবাই গল্পের শেষ লিখে ফেলে, তখনই নায়ক এসে শেষ পাতাটা বদলে দেন। ৭৫তম মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের নিখুঁত ক্রসে যেন আকাশে উঠে দাঁড়ালেন হ্যারি কেন। হেড দিয়ে আদায় করলেন গোল। ইংল্যান্ডের বুকভরা বিশ্বাসের পুনর্জন্ম ঘটল।

কিন্তু জয়ের গল্প যে লেখা হয়নি, নিজের মান পত্রটা লিখতে পারেননি তখনও। ১১ মিনিটের ব্যবধানে তাই আরও এক ম্যাজিক দেখালেন। অবিশ্বাস্য এক শটে শেষ করে দিলেন কঙ্গোর সব আশা-ভরসা। পুরো ম্যাচে প্রাচীর হয়ে থাকা গোলরক্ষক শুধু চেয়ে চেয়ে দেখলেন বলের চলে যাওয়া, এছাড়া কী-ই বা করার ছিল তাঁর। ইংল্যান্ডও সব শঙ্কা ঝেড়ে ফেলল দক্ষ নাবিক কেইনের কল্যাণে।

এই জোড়া গোলের সুবাদে বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা ১৩-তে নিয়ে গেলেন হ্যারি কেন। পেছনে ফেললেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি পেলেকে। চলতি বিশ্বকাপে তাঁর গোল এখন পাঁচটি। পুরো মাঠজুড়ে আধিপত্য তো দেখানই, আবার যখন দলের গোল আসে না, সেটাও এনে দেন তিনি। নিখাদ স্ট্রাইকারের আত্মা ভর করে বক্সের আশপাশে বল চলে গেলে। এতকিছুর পরও আড়ালে থাকতে হয়, তবুও কী যায় আসে? রাতের অন্ধকারে সূর্যের কদর তো আর কমে যায় না।

লেখক পরিচিতি

স্টাফ রিপোর্টার

Share via
Copy link