১৬ বছর পর নকআউট পর্বে জিতল স্পেন!

অস্ট্রিয়াকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে শেষ ষোলোই কেবল নিশ্চিত করেনি স্পেন, ভেঙেছে ১৬ বছরের নকআউট অভিশাপও।

কতটা দীর্ঘ হতে পারে একটি অপেক্ষা? স্পেনের জন্য তার উত্তর, ১৬ বছর। প্রজন্ম বদলে গেছে। বিশ্বকাপ জয়ের নায়করা বিদায় নিয়েছেন। নতুন মুখ এসেছে, নতুন কোচ এসেছে, বদলেছে ফুটবলের ভাষাও। কিন্তু বিশ্বকাপের নকআউটে জয়ের হাসিটা যেন কোথাও হারিয়ে গিয়েছিল। অবশেষে সেই হারানো হাসি ফিরল লস অ্যাঞ্জেলেসে। অস্ট্রিয়াকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে শেষ ষোলোই কেবল নিশ্চিত করেনি স্পেন, ভেঙেছে ১৬ বছরের নকআউট অভিশাপও।

অবশ্য এবারের বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্যেই এসেছে স্পেন। নকআউট পর্বে অস্ট্রিয়াকে ডমিনেট করবে, তা তো অনুমেয় ছিল। শুরু থেকে তাই বল দখল, আক্রমণ, নিয়ন্ত্রণ সবই নিজেদের করেই রেখেছিল তারা। অস্ট্রিয়া কেবল প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেছে।

প্রথম গোলটা অবশ্য এসেছিল মার্ক কুকুরেয়ার পা থেকে। তবে গোলরক্ষকের ওপর ফাউলের অভিযোগে গোল বাতিল করে দেন রেফারি। সেই অপেক্ষার অবসান ঘটান মিকেল ওইয়ারসাবাল। ৩৬ মিনিটে কুকুরেয়ার নিখুঁত পাস পেয়ে ঠান্ডা মাথার ফিনিশ। এক স্পর্শেই যেন খুলে গেল অস্ট্রিয়ার দুর্গের দরজা। প্রথমার্ধে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে বিরতিতে যায় দুই দল।

দ্বিতীয়ার্ধে আর কোনো দয়া দেখায়নি লা রোহা। ৬৬ মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে আলেক্স বায়েনার ভাসানো ক্রস। বক্সে উঠে দুর্দান্ত হেডে জাল কাঁপালেন পেদ্রো পোরো। সেই গোলের পরই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি স্পেনের হাতে চলে যায়।

শেষ আঘাতটা আবারও হানলেন ওইয়ারসাবাল। ৮৯ মিনিটে আবারও কুকুরেয়ার নিখুঁত পাস। বক্সের ভেতরে একা দাঁড়িয়ে থাকা স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড ভুল করেননি। সহজ ফিনিশে নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করার পাশাপাশি স্পেনের জয়টাকেও করে তুললেন আরও দৃষ্টিনন্দন। বিশ্বকাপে তাঁর গোলসংখ্যা পৌঁছে গেল চারে।

শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই শেষ হয়েছে স্পেনের ১৬ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষা। মাঝে চলে গেছে তিনটি বিশ্বকাপ, নকআউটে অবশেষে পেয়েছে জয়ের স্বাদ।

লেখক পরিচিতি

স্টাফ রিপোর্টার

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

Share via
Copy link